জিয়াবুল হক, সাতকানিয়া প্রতিনিধিঃ রমজান শুরুর আগ মুহূর্ত থেকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার প্রতিটি কাঁচাবাজারে বিভিন্ন সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব বাজারগুলোতে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। এতে কয়েক সপ্তাহের চড়া দামের পর স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে।
বিক্রেতারা জানান, গ্রামাঞ্চল থেকে প্রতিদিন অধিক পরিমাণে সবজি বাজারে আসছে। ফলে পাইকারি বাজারে দাম কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। অপরদিকে ক্রেতারা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিটি সবজি অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হলেও এখন দাম কমায় জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
সরেজমিনে সাতকানিয়া উপজেলার বৃহত্তম পাইকারি ও খুচরা কাঁচাবাজার বোমাংহাটে গিয়ে দেখা,গত সপ্তাহের তুলনায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। মাঠ থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা শাকসবজি সকালে কৃষকরা পাইকারি বিক্রি করেন। তাদের কাছ থেকে বিক্রেতারা ক্রয় করে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত খুচরা বিক্রি করে থাকেন। সরবরাহ বাড়ায় প্রতিটি সবজি পাইকারি দামে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আবার কিছু কিছু সবজির দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বোমাংহাটের খুচরা সবজি বিক্রেতা কামাল উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি শসা বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। একই শসা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। ওই সময় পাইকারিতে প্রতিটি সবজির দাম বেশি ছিল। এখন কৃষকরা বাজারে প্রচুর পরিমানে শাকসবজি নিয়ে আসছেন। ফলে আমরা কম দামে কিনতে পারছি, তাই খুচরাতেও কম দামে বিক্রি করছি। এ ছাড়াও বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় অন্যান্য বিক্রেতারাও দাম কম রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
অপর বিক্রেতা সুজন দাশ বলেন, গ্রামাঞ্চল থেকে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, বেগুন, লাউ, টমেটো, শসা, গাজর, কাঁচামরিচসহ নানা ধরনের সবজি পর্যাপ্ত পরিমাণে বাজারে পৌঁছাচ্ছে। সরবরাহ বাড়ার ফলে প্রতিটি সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে কেজিপ্রতি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, আলু ২০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, মরিচ ৮০ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা এবং মুলা বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়।
ধর্মপুর ইউনিয়নের চাঁদের পাড়া থেকে বোমাংহাটে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতে এসেছেন গৃহিণী জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি বলেন, আজকে দেখলাম অনেকেই একসঙ্গে বেশি পরিমাণে সবজি ক্রয় করছেন। দুই সপ্তাহ আগে ১ হাজার টাকা নিয়ে বাজারে আসলে খুব বেশি সবজি পাওয়া যেত না। এখন একই টাকায় বেশ ভালো পরিমাণে সবজি কেনা যাচ্ছে। এতে সংসার খরচ কিছুটা হলেও সাশ্রয় হচ্ছে।
সবজি ক্রেতা মো. সাইফুদ্দিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার তদারকি করায় বিক্রেতারা অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছেন না। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে সবজির দাম উঠা-নামা করায় সাধারণ ক্রেতাদের মতোও আমিও কিছুটা চিন্তিত। তবে অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কমবে এবং সবজির দাম ভবিষ্যতেও স্থিতিশীল থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে সবজির দাম নাগালের মধ্যে থাকায় আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। যদি রমজানজুড়ে এই ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে প্রতিটি সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। তবে মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট, কারসাজি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও আবহাওয়াজনিত সমস্যা দেখা দিলে দাম আবারও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান বলেন, উপজেলার প্রতিটি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি এবং পণ্য মজুত সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদারকি করছি।
















