৪ যুগের পুরোনো ১টিসহ রেলবহরে যুক্ত হলো ৫ লোকোমোটিভ

28

পার্বতীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলের প্রধান ও বৃহত্তম লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র—কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় (কেলোকা) পাঁচটি রেল ইঞ্জিনের মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। বাজেট ও জনবল সংকটের মধ্যেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় ইঞ্জিনগুলো মেরামত শেষ করে ঈদযাত্রা উপলক্ষে গতকাল রোববার রেলবহরে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Advertisement

কারখানা সূত্র জানায়, ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে পাঁচটি ডিজেলচালিত লোকোমোটিভের জেনারেল ওভারহোলিং (জিওএইচ) কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব ইঞ্জিনের মেরামত সম্পন্ন করে রেলবহরে যুক্ত করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার মেকানিক্যাল শাখায় অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৫৫৯ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৩৩ জন। প্রতি মাসেই গড়ে এক থেকে দুজন কর্মী অবসরে যাচ্ছেন। ফলে সীমিত জনবল ও বাজেট নিয়েই কারখানার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

কারখানা সূত্র আরও জানায়, গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৬টি রেল ইঞ্জিনের ভারী মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকা কয়েকটি ইঞ্জিনও মেরামত করে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। এমনকি ১৯৭৮ সালে তৈরি ৪৮ বছর (৪ যুগ) পুরোনো একটি ইঞ্জিনও মেরামত করে এবারের ঈদযাত্রায় রেলবহরে যুক্ত করা হয়েছে।

একটি রেল ইঞ্জিনে ৩৪ হাজারেরও বেশি যন্ত্রাংশ থাকে। এসব ইঞ্জিন মেরামতের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে হয়। সাধারণত একটি রেল ইঞ্জিনের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল প্রায় ২০ বছর। আয়ুষ্কাল শেষ হলে প্রতি ছয় বছর পরপর জেনারেল ওভারহোলিংয়ের জন্য ইঞ্জিনগুলো পার্বতীপুরের এই কারখানায় পাঠানো হয়। ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরিবর্তন, নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজন এবং নষ্ট অংশ মেরামতের মাধ্যমে ইঞ্জিনগুলো পুনরায় সচল করা হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রেলওয়ের মোট লোকোমোটিভ সংখ্যা ২৯৪টি। এর মধ্যে ব্রডগেজ ১০৮টি এবং মিটারগেজ ১৮৬টি। এসব ইঞ্জিনের মধ্যে প্রায় ১৫০টির আয়ুষ্কাল ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে—এর মধ্যে ব্রডগেজ ৬০টি ও মিটারগেজ ৮০টি। বর্তমানে রেলবহরে ৬৭ বছর পুরোনো ৮টি মিটারগেজ ইঞ্জিন এখনো চালু রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে ৪৮ বছর পুরোনো একটি মেরামতকৃত ইঞ্জিন যুক্ত হয়েছে।

১৯৯২ সালে সৌদি সরকারের অর্থায়নে ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বতীপুরে ১১১ একর জমির ওপর ডিজেলচালিত রেল ইঞ্জিনের জেনারেল ওভারহোলিংয়ের জন্য কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা স্থাপন করা হয়।

কারখানার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ হাসানুজ্জামান বলেন, সীমিত বাজেট ও জনবল নিয়েও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় ১৬টি ইঞ্জিনের ভারী মেরামত সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় বাজেট ও দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে কারখানার বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাচ্ছে না। প্রতি অর্থবছরে ৩০টি ইঞ্জিনের ভারী মেরামতের লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে ১৮ থেকে ২০টির বেশি সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

Advertisement