জিএম'র কঠোর নির্দেশনা

ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল’র বিশেষ উদ্যোগ

1

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সময়ানুবর্তী ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে যাত্রীসেবা উন্নয়ন, ট্রেন পরিচালনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উজ্জীবিত করা এবং রেলের সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (১২ মে) চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সিআরবি কনফারেন্স হল রুমে এ যৌথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেল শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম আর মঞ্জু, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস পলাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিকসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) চট্টগ্রাম মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) তানভীরুল ইসলাম, প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোঃ মাহাবুবুর রহমান, সিইউপিএস মো. সফিকুর রহমান, প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মোঃ শফিকুর রহমান, প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মোঃ সাদেকুর রহমানসহ পূর্বাঞ্চলের সকল বিভাগীয় প্রধান ও বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

সভায় জানানো হয়, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ট্রেন পরিচালনায় বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইঞ্জিন, কোচ ও সিগন্যালিং ব্যবস্থার ত্রুটি দ্রুত সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, “ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, ট্রেনের সঠিক সময়ে চলাচল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “রেলের প্রতিটি সেক্টরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। যাত্রীসেবাই হবে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”

সভায় রেল কলোনীগুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে সিআরবি হাসপাতাল কলোনী, টাইগারপাস কলোনী, আমবাগান, সেগুনবাগান, ওয়্যারলেস, ক্যান্টিন গেইট ও বন্দর পোর্ট কলোনীতে পানি, বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ ও রাস্তাঘাট সংস্কারের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ডে-কেয়ার, সেফটি কমিটি, সাপ্তাহিক ছুটি, হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসক সংকট নিরসন এবং রেল স্কুলগুলোর উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে রেলভূমি ইজারা কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সহজীকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি রেল স্কুল, ম্যানস স্টোরস, সিসিএস ও কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির পরিচালনা পরিষদ হালনাগাদ ও পুনর্গঠনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

সভা শেষে মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে ঈদযাত্রা সামনে রেখে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা প্রদর্শনের নির্দেশ দেন।

Advertisement