ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধু বিতাড়িতই হয়নি, তারা বাংলাদেশের রাজনীতির দেউলিয়ায় পরিণত হয়েছে। একটা জানাজা হয়েছে, আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মাননীয় চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মানবিক নেতা, বিএনপি সহনশীল দল।
একদিন আগেও জয় বাংলা বলার মুরদ ছিল না, একদিন পরেও নেই। জানাজার সময় যেখানে মানুষ শেষ যাত্রায় কালেমা পড়ে ১০-২০ জন ছেলে জয়বাংলা জয়বাংলা করে একটা কিছু প্রমাণ করতে চায়, একটা জিনিসই প্রমাণ করতে পারে সেটি হচ্ছে তারা শুধু বিতাড়িত হয়নি তারা বাংলাদেশের রাজনীতির দেউলিয়ায় পরিণত হয়েছে। আমরা চাই না রাজনৈতিক দেওলিয়াত্ব বাংলাদেশে থাকুক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এটার কোনো অংশ হোক।
আমাদের কর্মকাণ্ড হচ্ছে আমরা যেন আরো জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে পারি, দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারি, সেই লক্ষ্যে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাবো।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী সরাইপাড়া ওয়ার্ডের হাজি ক্যাম্প এলাকায় পাহাড়তলী, খুলশী, আকবর শাহ, হালিশহর ও ডবলমুরিং থানা যুবদল এবং ছাত্রদলের উদ্যোগে অসহায় মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম যাঁর জন্ম ইতিহাস পড়ার জন্য নয়, হয়েছিলো ইতিহাস সৃষ্টি করার জন্য। যাঁর জীবন কেবল বেঁচে থাকার জন্য দেশের জন্য বিলিয়ে দেওয়ার জন্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ।’ তাঁর সেই কালজয়ী উক্তি আজ বিশেষ করে মনে পড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করার নিরলস পরিশ্রম করতে দেখে।
তাঁরই পবিত্র রক্তবাহী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামে যে ধারণা ইতিমধ্যে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন সেটিতো তাঁর মরহুম পিতা শহীদ জিয়ারই মতাদর্শ। ইতিহাস বলে, পৃথিবীতে মহাপুরুষদের প্রায় সবাই ছিলেন ক্ষণজন্মা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও তেমনই একজন। তাঁর শাহাদতের পর বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই পথ হারায়। তবে আশার কথা, তাঁরই উত্তরাধিকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পিতার দেখানো পথেই হেঁটে চলেছেন। দেশ এবং দেশের মানুষকে নিয়ে তাঁর চিন্তা, পরিকল্পনায় রয়েছে নিখাদ দেশপ্রেম ও দূরদর্শিতার ছোঁয়া। মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির এই ধারকই যে আগামী দিনের কাণ্ডারী তা এখন আর ধারণা নয়, বরং এক অনিবার্য বাস্তবতা।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনের সভাপতিত্বে ও মহানগর যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি ফজলুল হক সুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি।
প্রধান বক্তা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অভ্যুদয় থেকে শুরু করে এর স্থিতিশীলতা অতঃপর আধুনিকতার পথে যাত্রা সবখানেই এই নামটি জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর সেই ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’- আজ একটি নতুন বাংলাদেশের সৃষ্টি। তিনি যদি বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন তাহলে স্বাধীনতা পেতে হয়তো আমাদের আরো দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতো।
এতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুব রানা, সাবেক সদস্য দিদারুর রহমান সুমন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু, নগর যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি নুর আহমেদ গুড্ডু, শাহেদ আকবর, এমএ রাজ্জাক, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান চৌধুরী, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ সভাপতি শহীদুল্লাহ বাহার, নগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান মাসুম, হেলাল হোসেন হেলাল, ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্যসচিব ফখরুল হাসান চৌধুরী রাজু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুল হক মজু, নগর যুবদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল পলাশ, আহাদ আলী সায়েম, দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মাদ সাগির, সহ সম্পাদক মিজানুর রহমান দুলাল, মোহাম্মদ ইউসুফ, সদস্য সোহাগ খান, নগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান (মাস্টার আরিফ), খন্দকার মো. রাজিবুল হক বাপ্পী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
















