দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে তাকে শপথ পড়ানো হয়।
মুখে শপথ নেওয়া শেষে শপথ বইতে স্বাক্ষর করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর তা সত্যায়িত করেন স্পিকার।
বঙ্গভবনে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অনুষ্ঠানের অতিথির সারিতে ছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় সন্ধ্যা ঠিক সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনের দরবার হলে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে এই শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর পরপরই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।
শপথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব। আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব। আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহীত আচরণ করিব।’ শপথের পর মির্জা ফখরুল শপথনামায় স্বাক্ষর করেন এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার তা সত্যায়ন করেন।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। একাধিক প্রার্থী থাকায় ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সংসদের ৩৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন এই নির্বাচনে ভোট দেন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। বিপুল ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন বিজয়ী প্রার্থী মির্জা ফখরুল।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে দরবারে হলে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

















