পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে: ডিসি জাহিদ

45

পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু প্রশাসন বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একার প্রচেষ্টায় নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, পরিচ্ছন্নতাকে সাময়িক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতেই চট্টগ্রামজুড়ে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

Advertisement

আজ শনিবার সকালে নগরের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে জেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “একা একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান কখনো একটি শহরকে পরিবর্তন করতে পারে না। আমাদের নাগরিকদের যে দায়িত্ব আছে, সেই দায়িত্ববোধ তাদের মধ্যে জাগ্রত করতে চাই। পরিবেশকে সুন্দর ও বসবাসযোগ্য রাখতে প্রত্যেক নাগরিককেই দায়িত্ব নিতে হবে।”

তিনি বলেন, গত ২৫ জুলাই থেকে সারা জেলায় ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। প্রথম দিনের অভিযানে ৬ হাজার ২২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন এবং বিভিন্ন সরকারি অফিসের ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ১৩৫ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। পরে বিভিন্ন পুকুর ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা এটিকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের কর্মসূচি হিসেবে দেখতে চাই না। এটি মানুষের অভ্যাসে পরিণত হোক। অভ্যাসে পরিণত হলে আর দিন বা সময় বেঁধে দিতে হবে না; মানুষ নিজ দায়িত্বেই নিজের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখবে।”

তিনি জানান, শনিবার শুধু জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সেই নয়, চাঁদগাঁও ও পটিয়ার বিভিন্ন পুকুরসহ জেলার আরও কয়েকটি স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ উদ্যোগ বছরব্যাপী এবং পর্যায়ক্রমে আরও বিস্তৃত করা হবে।

প্রায় ১৬ একর ৩৮ শতক জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে আরও পরিচ্ছন্ন ও দর্শনার্থীবান্ধব করে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার প্রতিরূপ নিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে ‘মিনি বাংলাদেশ’। জাতীয় সংসদ ভবন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, কান্তজীর মন্দির, কার্জন হল ও আহসান মঞ্জিলসহ বিভিন্ন স্থাপনার প্রতিরূপ রয়েছে এখানে।

“যে মানুষ বাংলাদেশকে জানতে চায়, দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে জানতে চায়, সে একবার এখানে এলে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সম্পর্কে ধারণা পাবে,” বলেন জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, কালুরঘাটের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সের সঙ্গে মানুষের আবেগ ও আগ্রহ জড়িয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য স্থানটিকে নিরাপদ ও মানসম্মত বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় জেলা প্রশাসন।

সাম্প্রতিক সময়ে কমপ্লেক্সটির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সংস্কার ও কমপ্লেক্সটি পুনরায় সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে। তবে তার আগেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো এলাকা পরিচ্ছন্ন করে দর্শনার্থীদের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা চাই মানুষ এখানে এসে নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে সময় কাটাক, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানুক। একই সঙ্গে আমাদের আগামী প্রজন্ম সুস্থ পরিবেশে বেড়ে উঠুক, দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক।”

চট্টগ্রামকে নান্দনিকভাবে সাজানোর আরও কয়েকটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকেও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে আরও কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদউল্লাহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শুধু দেশ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করলেই হবে না, মানুষের মনও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দিতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারসহ জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে ধারাবাহিক সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে নিতে নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

Advertisement