নগরের খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের কারও কাছে পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হলেও পাসপোর্টের কোনো হদিস মেলেনি।
ফলে তারা কোন ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে তথ্যও এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। এছাড়া তাদের সঙ্গে একটি শিশুও ছিল।
তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ পাওয়া গেছে। তবে কারও কাছে কোনো পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি কম্বোডিয়ার চাকরির কার্ড পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে সেখানে অনলাইনে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কাজ করা হচ্ছিল। এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি কিছু চক্র জড়িত রয়েছে। তবে প্রতারণার ধরন এখনো বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতারণার ধরন আমরা তদন্ত করছি। আপাতত তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির মালিকানাধীন আটতলা ভবনটি মাসে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া হয়। সেখানে দেশভেদে আলাদা করে বিদেশি নাগরিকদের রাখা হয়েছিল। তাদের জন্য রান্নার ব্যবস্থাও ছিল। মহসিন নামে এক ব্যক্তির কাছে অধিকাংশ বিদেশির পাসপোর্ট রয়েছে। তিনিই ভবনটি ভাড়া নিয়ে তাদের যাবতীয় বিষয় দেখভাল করতেন। বর্তমানে পুলিশ তাকে খুঁজছে।
কাউন্টার টেরোরিজমের কর্মকর্তাদের ধারণা, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এসব বিদেশিকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে পণ্য দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম টাকা নেওয়া কিংবা হানিট্র্যাপের মতো প্রতারণায় দক্ষ হতে পারেন।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আব্দুর রহিম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা কবে এবং কোন ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন, সেটি বের করা হবে। বর্তমানে মামলাটি কাউন্টার টেরোরিজম তদন্ত করছে।















