ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গের প্রস্তুতি রাখতে সৌদি আরবের সেনাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান। সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই এমন আহ্বান জানালেন তিনি।
শুক্রবার সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, দেশের সুরক্ষা এবং এর ভূখণ্ডের এক ইঞ্চির ওপরও কেউ হস্তক্ষেপ করতে চাইলে তাকে প্রতিহত করা ‘সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও সর্বোত্তম ইবাদতের কাজগুলোর’ মধ্যে পড়ে। এ দায়িত্ব পালনে জীবন ও আত্মা উৎসর্গ করা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইয়েমেন সীমান্তে মোতায়েন সৌদি সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া এই বিরল ও কঠোর ভাষার বার্তায় কোরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং আল্লাহ ও নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি আনুগত্য ও আত্মত্যাগের সঙ্গে সম্পর্কিত হাদিসের উল্লেখ করা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে রিয়াদ দাবি করেছে। এর জবাবে সৌদি আরবও হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।
এদিকে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা ও উপকূলীয় শহর ধুবাবও রয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে গোষ্ঠীটি।
বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এর মাধ্যমে জাহাজগুলো সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপীয় বাজারে যেতে পারে। তাই এই এলাকায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইতোমধ্যে যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিধিনিষেধের প্রভাবও রয়েছে। এর মধ্যে বাব আল-মান্দাব ঘিরে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে এই সংঘাতকে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১২ বছর ধরে চলা যুদ্ধ ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেখানে আবারও লড়াই তীব্র হয়েছে।
গ্র্যান্ড মুফতির বিবৃতিতে হুতিদের সম্পূর্ণ পরাজয়ের জন্য প্রার্থনা করা হয়। এতে বলা হয়, সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত সেনাদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে, শাসক ও সামরিক কমান্ডারদের নির্দেশ মেনে চলতে হবে এবং সর্বোচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি মসজিদে হুতিদের হামলার দাবি করে ভিডিও প্রচার করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, হুতিরা মক্কা লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
গ্র্যান্ড মুফতি সৌদি সেনাদের পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় দায়িত্ব পালনের কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবিদের পথ অনুসরণ করছেন।

















