চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা.শাহাদাত হোসেন বলেছেন, অবিলম্বে চট্টগ্রাম আঞ্চলে সিরিয়ালে থাকা ২৫ হাজার গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ দিন।বিদ্যুৎতের প্রিপেইড মিটারের ব্যাটারি ডাউন হলে স্ব স্ব এলাকার বিদ্যুৎ অফিস হইতে ব্যাটারি পরিবর্তন করার কথা থাকলেও গ্রাহকের নিকট হইতে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত করা হয়।চট্রগ্রাম ওয়াসার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা ও মিটার ইন্সপেক্ট কর্তৃক গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধ করে অতিরিক্ত বিল প্রদান থেকে বিরত থাকার দাবি জানান। গ্রাহকের নিকট হইতে কেজিডিসিএল কর্তৃক ৭০ কোটি টাকা গ্রহন করে তাদরে গ্যাস সংযোগ না দিয়ে উল্টো হয়রানি করা হচ্ছে। গ্রাহকের নাম পরিবর্তন, রাইজার স্থানান্তর দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে গ্রাহকগণ হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। আমরা এই দুর্ণীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এই সংবাদ সম্মেলন থেকে।
কেজিডিসিএল কর্তৃক অবিলম্বে আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রদান, চট্টগ্রাম ওয়াসার মিটার ইন্সপেক্ট কর্তৃক অতিরিক্ত বিল প্রদান ও গ্রাহক হয়রানি বন্ধ করণ বিদ্যুৎতের প্রিপেইড মিটারের ব্যাটারী ফ্রিতে ও সমস্যগুলো দ্রুত সমাধানে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহন না করলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আজ রবিবার (৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে এগারোটায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে চট্টগ্রম গ্রাহক কল্যাণ পরিষদ ও কেজিডিসিএল ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগে আবাসিক গ্যাস সংযোগ চালু ও পানি, বিদ্যুৎ এর গ্রাহক হয়রানি বন্ধের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
ডা.শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দেশের জনগনের কথা চিন্তা না করে সরকার জ্বালানি তেলের দাম আবারো অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। কেরোসিন ও ডিজেলের দাম ৬৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা করা হয়েছে। এক লাফে ২৩% দাম বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে নিত্য প্রয়োজনিয় দ্রব্যমূল্যে হু হু বেড়ে যাবে।ফলে দেশের মানুষের দুর্দশার সীমা থাকবে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার।
এই সংবাদ সম্মেলন থেকে চট্টগ্রম গ্রাহক কল্যাণ পরিষদ ও কেজিডিসিএল ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি পক্ষে অবিলম্বে আবাসিক গ্যাস সংযোগ চালু, বোতলজাত এল পি গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, বিদ্যুৎ গ্রাহক হয়রানি বন্ধ, চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষের মিটার ইন্সপেক্টর কর্তৃক গ্রাহক হয়রানি ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ দাবি সহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিল্প ও ক্যাপটিভ খাতে গ্যাস সংযোগ প্রদানের জটিলতা নিরসনের জন্য ১২ দফা উপস্থাপন করছি।
গ্যাসের সংযোগের দাবি সমূহ :-
১। জ্বালানী মন্ত্রনালয় কর্তৃক বিগত ২০১৫ সালে এক মৌখিক নির্দেশের মাধ্যমে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ করেন ও গত ০৭/০৫/২০২১ ইং তারিখে ১৬৮ নং স্বারক মূলে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অপেক্ষমান ২৫ হাজারের অধীক গ্রাহকের জামানতের টাকা ফেরত দেওয়ার যে নির্দেশ প্রদান করেন তাহা প্রত্যাহার করে আবাসিক খাতে সকল ধরনের গ্যাস সংযোগ চালু করার দাবি জানাচ্ছি।
২। চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহক তাদের চাহিদা পত্রের সকল টাকা কোম্পানীর কোষাগারে জমা দিয়ে, কেজিডিসিএল এর অনুমোদন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে রাস্তা কর্তনের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেন, গ্রাহকের বাড়ীতে জি.আই পাইপ লাইন নির্মান করে সংযোগের কার্য্য সমাপ্তি প্রতিবেদন দাখিল করে সংযোগের অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন। সেই সকল গ্রাহকদের জরুরী ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহন করা।
৩। যেই সকল গ্রাহকগণ নতুন সংযোগের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। তাদের নথি অনুমোদন দিয়ে চাহিদা পত্র ইস্যু করে গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা গ্রহন করা।
৪। কেজিডিসিএল একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, অথচ চট্টগ্রামের গ্রাহকরা নানাভাবে উক্ত সেবা হইতে বঞ্চিত হচ্ছেন, যেমন গ্রাহকের নাম পরিবর্তন, রাইজার স্থানান্তর, অবকাঠামো পরিবর্তন সহ নানাবিধ সমস্যা সৃষ্ঠি করে গ্রাহকদের হয়রানি করা হয়। গ্যাস সংযোগ কাজের সাথে জড়িত ঠিকাদার ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযুক্ত প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা, কর্মচারী, ফিটার, লেবার ও পরিবার পরিজনদের জীবন জীবিকা নির্বাহের একমাত্র কর্মসংস্থান গ্যাস পাইপ লাইনের সাথে, তাদের কথা বিবেচনায় রেখে গ্যাস সংযোগ চালু করার দাবি।
৫। যেই সকল গ্রাহকদের বাড়ীতে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিদ্যমান রহিয়াছে তাদের চুলা বর্ধিত আবেদন গ্রহন করে জরুরী ভিত্তিতে বর্ধিত সংযোগ প্রদান করা। কারণ যেই বাড়ীতে একতলায় গ্যাস সংযোগ রহিয়াছে সে বাড়ীর ২য় তলায় কীভাবে লাকড়ির চুলায় ও দুই হাজার টাকা মূল্যের বোতলজাত এলপি গ্যাস ব্যবহার করবেন। এ সকল গ্রাহকদেরকে দ্রুত গতিতে চুলা বর্ধিত করণের দাবি করছি।
৬। আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ রেখে বোতলজাত এল পি গ্যাস উৎপাদন, বাজারজাত করণের সাথে জড়িত কিছু স্বার্থন্বেসী মহলের ইশারায় আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ রেখেছেন। এরই সুযোগে বার বার বোতলজাত এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে জণগণের পকেট কেটে তারা টাকার পাহাড় গড়ছেন এবং মানহীন বোতলের মাধ্যমে এলপিজি গ্যাস বিক্রয় করায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় বোতল বিষ্ফোরীত হয়ে বহু মানুষ আহত, নিহত ও বাড়ীঘর পুড়ে ছাড়খান হয়েছেন। যেমন গত ১৬/০৭/২০২০ ইং তারিখে গ্যাস সিলিন্ডার এর আগুনে বসতঘর পুড়ে ছাই পটিয়ায়, গত ২২/০৯/২০২০ ইং তারিখে সিলিন্ডার বিষ্ফোরণে মোহরার ৫ নং ওয়ার্ডে ০৭ টি ঘর পুড়ে ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধিত হয়েছেন, গত ০১/১১/২০২১ ইং তারিখে গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরিত হয়ে ০৮ জন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এতেই প্রমান হয় লাইনের মাধ্যমে ব্যবহারিত আবাসিক গ্যাস সংযোগ নিরাপদ ও দারিদ্র মানুষের জন্য একটি সাশ্রয়ী জাল্বানী হিসেবে ব্যবহার যোগ্য। আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে আমরা দাবি জানাচ্ছি বোতলজাত এলপি গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার ও দ্রুত গতিতে আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রদানের দাবি করছি।
৭। চট্টগ্রাম এলকায় বেশীর ভাগ মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করেন তাদের পক্ষে ২ হাজার টাকায় এল.পি গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করে রান্নাবান্ন করা সম্ভব না। এই দেশের নাগরিক হিসাবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার তাদের মৌলিক অধিকার। উৎপাদনের মাত্র ১২ ভাগ গ্যাস আবাসিক খাতে ব্যবহার হয়। যার প্রভাব সার্বিকভাবে পড়ার কথা না। অথচ গাছ পালা নিধন করে রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করিলে যেমনি পরিবেশের ক্ষতি হবে তেমনি জ্বালানী সংকটে রান্নাবান্নার কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। সেই জন্য বিষয়টি বিবেচনা করে সকলকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান করার দাবি।
৮। জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের একের পর এক হটকারী সিদ্ধান্তের কারণে আজ দেশের উন্নায়ন কাঠামোতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। বহু মানুষ কর্ম হারিয়ে বেকারত্ব জীবন যাপন করছেন, প্রবাসে বসবাসরত ব্যক্তিরা ফ্ল্যাট বাড়ী ক্রয় করে ও নিজে একটি বাড়ী নির্মান করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গ্যাসের অভাবে নিজে বসবাস অথবা ভাড়ায় লাগিয়ত করতে পারছেন না। তাদের কথা বিবেচনা করে জ্বালানী মন্ত্রনালয়ের হটকারী সিদ্ধান্ত বাতিল করে দ্রুত গতিতে আবাসিক সংযোগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
৯। চট্টগ্রামবাসীর অনেক আশা আকাঙ্খা ছিল যে কর্ণফুলী গ্যাস বাস্তবায়ন হলে অন্তত আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হবে। এ আশায় কর্ণফুলী গ্যাস বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে চট্টগ্রামবাসী একসাথে দাবী জানিয়ে ছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের নিকট আমাদের দাবি যেই ব্যাক্তি ৪০ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি গাড়ী ক্রয় করতে পারেন। সেই ব্যাক্তি ৭০ টাকা লিটারের ডিজেল ক্রয় করে গাড়ী ব্যবহার করা সম্ভব। অথচ দরিদ্র পরিবারগুলো লাকড়ি বা বোতলজাত এলপিজি গ্যাস ক্রয় করে রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাই জরুরী ভিত্তিতে আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
১০। আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার না করিলে চট্টগ্রাম গ্রাহক কল্যাণ পরিষদ ও কে.জি.ডি.সি.এল ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি তথা চট্টগ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে এই দাবী বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের দাবি সমূহ :-
১১। প্রিপেইড মিটারের ব্যাটারী ডাউন হলে বিদ্যুৎ উন্নায়ন কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে ব্যাটারী সংযুক্ত করার কথা থাকলেও গ্রাহকের নিকট হইতে ৮০০ হইতে ১০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে আমরা তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিদ্যুৎ সংযোগ নষ্ট/ বিকল হলে গ্রাহকের অভিযোগ প্রদানের পর টাকা ছাড়া কোনো সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে না। যার ফলে গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন আমরা তার দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছি। যেসকল এলাকায় পাড়ায়, মহল্লায় এখনো গাছের খুটি দিয়ে বিদ্যুৎ তার বাশের খুটির উপর বিদ্যুৎ তার চালিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে সে সকল এলাকায় অবিলম্বে পাকা পিলার নির্মাণ করার দাবি জানাচ্ছি।
চট্টগ্রাম ওয়াসা সমস্যা সমাধানের দাবি সমূহ :-
১২। চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক সিটি কর্পোরেশনের এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও লিকেজকৃত লাইন মেরামত করে স্বাস্থ্যসম্মত পানি সরবরাহ করার দাবী। চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষের মিটার ইন্সপেক্টর কর্তৃক গ্রাহকদের নিকট হইতে অন্যায়ভাবে টাকা দাবি করিয়া থাকেন। অন্যথায় গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিল প্রদান করে তাদের হয়রানি করেন, তারই দ্বারাবাহিকতায় পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডে ইন্সপেক্টর হাসান কর্তৃক বহু গ্রাহক নির্যাতিত ও হয়রানির স্বীকার হয়েছেন। আমরা তার প্রত্যাহার ও দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানাচ্ছি। যে সকল এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম সেসকল এলাকায় পানির সরবরাহ বৃদ্ধি করার দাবি জানাচ্ছি।
এসময় চট্টগ্রাম গ্রাহক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি নুরুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল বাশারের উপস্থাপনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আলহাজ্ব আবদুল আজিজ, মছিউর দোল্লাহ জাহাঙ্গীর, আলহাজ্ব ইকরাম চৌধূরী, মোঃ শাহজাহান, আসাদুর রহমান (টিপু), হাজী মোঃ নাছির উদ্দীন, হাজী মোঃ মঞ্জুর আলম, মোঃ আবছার, মোঃ নুর নবী, হারুন শাহেদ, দেলোয়ার হোসেন দুলাল, বায়েজিদ হোসেন ঢালি, ফারুক আকবর, মোঃ নুর নবী, জহিরুল ইসলাম, মোঃ কামরুল, মোঃ নাজিম উদ্দীন, মোঃ সেলিম, হারুনুর রশিদ, নন্দন রায়, সাইফুল ইসলাম কবির, মোঃ হান্নান, মোঃ বেলাল, মোঃ ইয়াছিন, মোঃ ইউসুফ, আবু তাহের, মোঃ শহিদ, আবদুর রহিম, মোঃ ইসমাইল হাওলাদার, মোঃ রুবেল, মোঃ মিজান, মোঃ হাকিম, মোঃ শাহাবুদ্দীন, মোঃ শহিদ মুন্সি, আবু সৈয়দ, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ মোরশেদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
















