অত্যাধুনিক ও প্রযুক্তিগত পদ্ধতি প্রয়োগে পরিচ্ছন্নতায় নতুন দ্বার উন্মোচিত হলোঃ মেয়র

734

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জাতীয় ও চট্টগ্রামের উন্নয়নের সহযাত্রী এবং সহায়তাকারী সংস্থা জাইকার সম্পৃক্ততাকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বর্জ্য অপসারণ ও বর্জ্যকে শক্তিতে পরিণত করতে তাদের অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনা একটি দৃষ্টান্তমূলক শুভ উদ্যোগ। এতে বর্তমান ও ভবিষ্যত দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব হবার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।

Advertisement

আজ বৃহস্পতিবার সকালে টাইগারপাসস্থ নগর ভবনে তাঁর দপ্তরে জাইকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প কর্তৃক চসিককে ৩৫টি প্রোটোটাইপ রিক্সা ভ্যান ও দু’টি ওয়ার্ড কনজারভেন্সি অফিস হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, জাইকা চসিকের অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে নগরীর বেশ কয়েকটি সড়ক উন্নয়নে সংস্থাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে। এই কাজটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনের সহায়ক।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জায়গায় ৩১নং আলকরণ ওয়ার্ডস্থ রেল স্টেশন ও ৩৯নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডস্থ বক্স আলী রোডে জাইকা’র অর্থায়নে অত্যাধুনিক ও প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে ২টি কনজারভেন্সি সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। চসিক সর্বাত্মক প্রয়াসের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে চলমান রাখবে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম পাহাড়, নদী ও সমুদ্র বেষ্টিত একটি বন্দর নগরী। এই নগরকে ঘিরে বর্তমান সরকার কর্ণফুলীর তলদেশে ট্যানেল, বে-টার্মিনাল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে ওয়ান সিটি টু টাউন রূপান্তর এবং চট্টগ্রাম বিশ্বের অর্থনৈতিক হাব হয়ে উঠবে। তবে বর্তমানে নগরীতে জলাবদ্ধতার সমস্যাটি তীব্র, এই সমস্যা সমাধানে সরকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সমস্যাটি থেকে নগরবাসী পরিত্রাণ পাবে।

মেয়র জাইকা প্রতিনিধিদলকে চসিকের পক্ষ থেকে একটি চাহিদাপত্র প্রদান করেন। এতে উল্লেখ করা হয় চসিকের মাস্টারপ্ল্যান (২০২১-২০৫০) অনুযায়ী প্রয়োগ পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই নগর সমাজ বিনির্মাণ করতে হবে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নগরীতে সাধারণ বর্জ্যরে পাশাপাশি মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড ভিত্তিক এই কার্যক্রম সম্প্রসারণে জোর দিয়ে ভূমিতে বর্জ্য মওজুদ যাতে পরিবেশ হানিকর না হয় সেক্ষেত্রেও পদক্ষেপ প্রয়োজন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আইসিটি-কে গুরুত্ব দিতে হবে। মেট্রোরেল ট্রানজিট ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে- এক্ষেত্রে জাইকার ভূমিকা থাকবে। ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩টিতে কম্প্যাক্টর ট্রাক জাইকা গ্রান্ট এইড-২০১৮ অনুযায়ী আছে। এতে আরো ১০০টি প্রোটোটাইপ রিক্সাভ্যান ইউনিট প্রয়োজন এবং আরো ১০টি ওয়ার্ডে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অফিস (এসডাব্লিউএম) স্থাপন করতে হবে।

জাইকা প্রতিনিধি দলের প্রধান বলেন, বাংলাদেশ এখন সাড়া বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। এই অভিযাত্রায় জাপানও সহায়ক সহযাত্রী। বিদ্যমান উন্নয়নের ধারাকে অধিকতর গতিশীল রাখতে জাইকা যে উদ্যোগ নিয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বিনিয়োগ করেছে তা জনগণের কল্যাণ বয়ে আনলে আমরা পরিতৃপ্তবোধ করবো।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে পরিবেশের নিরাপত্তা ও বায়ু দূষণের বিষয়কে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। আধুনিক বিশ্বে থ্রি আর বা রি-সাইকেল, রি-ডিউস ও রি-ইউস এ তিন পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তিনি মেয়র’র চাহিদাপত্র অনুযায়ী যথাযথভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলম, সচিব খালেদ মাহমুদ, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশলী মীর্জা ফজলুল কাদের, জাইকা’র সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ সাহেকি তাকেশি, রিপ্রেজেন্টেটিভ ডাইকি মাতসুমোতো, এসডব্লিউএম প্রজেক্টের টিম লিডার মাসহিরো সাইতো, জাইকা’র সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. আব্দুল্লাহ বিন হোসাইন, এসডব্লিউএম’র ন্যাশনাল টিম লিডার মো. রোকনুজ্জামান, ডেপুটি টিম লিডার গোলাম সারওয়ার প্রমুখ।

Advertisement