পতেঙ্গায় ভূমি দস্যুদের কবলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা

808

নগরীর পতেঙ্গায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের ভূমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে সিটি কর্পোরেশনের ৪০ নং উত্তর পতেঙ্গার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এস রহমান হল কক্ষে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে কাঁদতে কাঁদতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোস্তাফিজুর রহমানের কন্যা মনোয়ারা বেগম।

জীবনের সঞ্চয় ও ধার-কর্জ করে ২৭/০৬/২০০৬ সালে ৭৯৯ নং সাফ কবলা দলিল মূলে ০২ গন্ডা ০৩ কড়া ভিটি ভূমি খরিদ করেন আমার স্বামী আবদুল হাই। নজর পড়ে ভূমি দস্যুদের, প্রথম থেকে জায়গার দখল ছেড়ে দিতে হুমকি দমকি দিয়ে আসছে। গত ১০ বছর ধরে মানসিক নির্যাতন, হুমকি দমকি, একের পর এক অতর্কিত হামলা চালিয়ে আসছে। শেষ সম্বল ভিটি ভূমিটাও আমার কাছ থেকে কেঁড়ে নিতে চাইছে স্হানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল বারেক, জহুর আলম, ইসমাইল সওদাগর, মনসুর,বাল্লা’র সাঙ্গপাঙ্গরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এস রহমান হল কক্ষে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে কাঁদতে কাঁদতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোস্তাফিজুর রহমানের কন্যা মনোয়ারা বেগম। তাহার পিতার বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নংঃ ৩৬৩৪।

লিখিত বক্তব্যে মনোয়ারা বেগম বলেন, গত ১৫/০৯/২০ ইং তারিখে কাউন্সিলরের লোকজন প্রকাশ্য বলেন জমির দখল ছেড়ে দিয়ে অন্যত্রে চলে যেতে নচেৎ আমার স্বামীকে প্রাণে মেরে ফেলবে, আমি স্থানীয় পতেঙ্গা থানায় জিডি করতে গেলেও ভুমি দস্যুদের প্রভাবের কারণে ওসি জিডি গ্রহণ করেননি।

পরবর্তী ২৯/০৯/২০ ইং তারিখে আমরা আমাদের জায়গার সীমানা দেয়াল নির্মাণ করতে গেলে ৪০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল বাকেরর নির্দেশে ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী অস্ত্র -শস্ত্র নিয়ে আমার স্বামী ও আমার দেবরের উপর হামলা চালিয়ে আহত করে। উক্ত জমিতে থাকা সাইনবোর্ড ও উপরে ফেলে দেয়। ঘটনা সময় আমরা উপায়ন্তর না পেয়ে ৯৯৯ এ কল করলে এস আই মোঃ বাবুল আক্তার সরজমিনে পরিদর্শনে এসে আমাদেরকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেয়।থানায় গেলে ক্রমিক নং ১৪৪৬ তাং ২৯/৯/২০২০ ইং সম্বলিত একটা টোকেন প্রদান করে। আমাদের কোনো জিডি কপি প্রদান করা হয়নি এবং তৎপরবর্তী সময় হতে অদ্যাবধি উক্ত জিডি সংক্রান্তে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি।

আমার বর্তমান ভিটি রক্ষায় মাননীয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ( মহানগর) চট্টগ্রাম এর আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনে ১৪৫ ধারামতে প্রতিকার পাওয়ার আবেদন করে একটা মামলা করেন আমার স্বামী, যাহার মামলা নং ১২১৮/২০২১।

সুষ্ঠ ভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার আশায় গত ১৮ মার্চ ২১ চট্টগ্রাম র‍্যাব-৭ অধিনায়ক, ২৪ মার্চ ২১ উপ- পুলিশ কমিশনার (বন্দর), ১৮ মার্চ ২১ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবরেও আবেদন করি।

উপরন্তু ভূমি দস্যুগণ কিছুদিন নিরব থাকলেও আবারও জায়গায় দখলের পায়তারা শুরু করছে এবং হুমকি প্রদানের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন। কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে শেষ গত ২৩/১১/২০২১ ইং তারিখ পতেঙ্গা থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি,যাহার নাম্বার -১০৪১/২১।

তিনি বলেন, আমি সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মাননীয় ভূমিমন্ত্রী, পুলিশ আইজিপি, র‍্যাব মহাপরিচালক, ও চট্টগ্রামের সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে সুষ্ঠু বিচারের প্রার্থনা করছি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোয়ারা বেগম এর স্বামী আব্দুল হাই, দেবর আবদুচ ছাত্তার, আত্মীয় রুহুল আমিন প্রমুখ।

Advertisement