বলী খেলা বাঙালির প্রাণের উৎসব, যে কোন মূল্যে এ উৎসবকে বাঁচিয়ে রাখতে সুজনের অনুরোধ

209

বলী খেলা বাঙালির প্রাণের উৎসব, যে কোন মূল্যে এ উৎসবকে বাঁচিয়ে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। 

Advertisement

বুধবার (১৩ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ অনুরোধ জানান।

এ সময় সুজন বলেন বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ এবং একই সঙ্গে বাঙালি যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলার অভিপ্রায় থেকে এ বলী খেলার জন্ম। বলী খেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এ মেলা সুদীর্ঘকাল থেকে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির এক বিরাট অংশ দখল করে আছে। মূলত এ মেলা থেকে সারা বছরের গৃহস্থালির নিত্যব্যবহার্য তৈজসপত্র সংগ্রহ করেন গৃহকর্ত্রীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দোকানিরা শামিয়ানা টাঙ্গিয়ে এবং কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে হরেক রকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন মেলায়।

এছাড়া গ্রামীণ শিল্পীদের তৈরি করা নকশীকাঁথা, মাছ ধরার চাঁই, বেতের তৈরি চালুনি, ঝাড়ু, কুলা, হাতপাখা, হাঁড়ি-পাতিল, কাঠ-বাঁশ-বেতের তৈরি আসবাবপত্র, শীতলপাটি, কারুকাজ করা পিঠার ছাঁচ, রুটি বেলার বেলুনি ও পিঁড়া, পোড়ামাটিতে তৈরি বিভিন্ন মৃৎপাত্র, মটকা, মাটির কলস, ফুলদানিসহ নানা রকমের নিত্যব্যবহার্য পণ্য বিক্রি হয় এই মেলায়।

তাছাড়া কৃষি সমাজের সারা বছরের প্রয়োজনীয় উপকরণাদি কাস্তে, কোদাল, শাবল, শস্যবীজসহ নানা প্রকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কৃষকেরা সংগ্রহ করতো এ মেলা থেকে। মোটামুটিভাবে সারা বছরের নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র মেলা থেকে সংগ্রহ করে বাসা বাড়িতে নিয়ে আসেন নারী, পুরুষসহ আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। আর এ মেলাকে কেন্দ্র করে বছরব্যাপী এসব জিনিসপত্র তৈরীতে ব্যস্ত থাকে বিক্রেতারা। এসব মেলা আমাদের কৃষি অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যুগ যুগ ধরে এসব মেলা চলে এসেছে তার নিজস্ব স্বকীয়তায়।

মূলত এ মেলাগুলো ছিল একদিকে অর্থনীতি বিনিময়ের হাতিয়ার অন্যদিকে ঋতু ভিত্তিক সংস্কৃতি বিকাশের অন্যতম ক্ষেত্র। গ্রামীণ মানুষজন এসব মেলা-খেলাকে বিনোদন হিসেবে মনে করতো। আর বলী খেলার এ মেলাকে কেন্দ্র করে বিশাল আকারের অর্থনীতি যোগ হতো গ্রামীণ অর্থনীতিতে। চট্টগ্রাম শহরসহ আশেপাশের জেলার অধিবাসীরাও সারা বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকে এ মেলার জন্য। তাই এসব মেলা-খেলাকে যে কোন মূল্যে বাঁচিয়ে রাখতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

সুজন আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক এবং সাহসী পদক্ষেপের ফলে করোনা সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ করোনার দ্বিতীয় ডোজের টিকা শেষ করে তৃতীয় ডোজের টিকা গ্রহণ শুরু করেছে। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে সবকিছু আগের মতোই স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়েছে।

এমতাবস্থায় আগামী ১২ বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব ঐতিহ্যবাহী বলী খেলার আয়োজনে সকল পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান খোরশেদ আলম সুজন।

Advertisement