শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার সময় আরও একদিন বাড়ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটির সভাপতি চসিক কাউন্সিলর জহুর লাল হাজারী। ফলে আগামী বুধবার ২৭ এপ্রিল শেষ হচ্ছে এবারের বৈশাখী মেলা।
জহুর লাল হাজারী বলেন, মেলায় আগত ব্যবসায়ীরা আমার কাছে এসেছে একদিন মেলা বাড়ানোর জন্য। আমি মেয়রের (এম রেজাউল করিম চৌধুরী) সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন- সড়ক যেহেতু বন্ধ হয়নি, মেলার মধ্যে যেহেতু গাড়ি চলছে- তাতে একদিন মেলা বাড়ালে উনার আপত্তি নেই।
এদিকে, করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর আয়োজন হয়নি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলিখেলা ও বৈশাখী মেলা। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কুটির শিল্পের ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলা না হওয়ায় গত দুই বছরে কুটির শিল্পের লোকসান হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।
লাঙ্গলকোট থেকে আসা বেতের তৈরি পণ্য বিক্রেতা এনামুল করিম বলেন, আমি ২২ বছর ধরে জব্বারের বলি খেলায় বেতের তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করছি। আমার জানামতে এখানে প্রতিবছর তিন শতাধিক কুটির শিল্প ব্যবসায়ী তাদের পণ্য নিয়ে আসেন। গড়ে প্রত্যেক বিক্রেতা পাঁচদিনে দুই লাখ টাকা আয় করেন।
কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে আসা কাঠের শো-পিস বিক্রেতা জালাল উদ্দিন বলেন, এবার আমরা খুব ঝামেলার মধ্যে মেলায় বসেছি। এবার দেখলাম মেলার মধ্যে সড়ক খোলা রাখা হয়েছে। এখানে বাস, সিএনজি ট্যাক্সি এবং রিক্সা চলছে। যেটা আগে কখনো হয়নি। আর মেলার পরিসর ছোট করা হয়েছে- এ জন্য অনেক বিক্রেতা তাদের পণ্য সাজিয়ে বসতে পারেনি। এছাড়া রমজান মাস হওয়ায় মেলায় বিক্রিও কম। তাই অসহায় কুটির শিল্পের লোকজনের জন্য হলেও আরেকদিন মেলা বাড়ানোর অনুরোধ করছি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার মুজাহিদুল ইসলাম পূর্বকোণ অনলাইনকে বলেন, এবার মেলায় পুলিশ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিচ্ছে। মেলা বাড়ানোর বিষয়ে আয়োজক কমিটি বলতে পারেন। বিষয়টি আমি পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর স্যারকে জানাবো। আর মানুষের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে সড়ক বন্ধ হবে কিনা। মেলার চারটি স্পষ্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার তো আছেই।
















