মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে আবারো মারা গেছে ডলফিন। এটিকে হত্যা বলে মনে করছেন হালদা বিশেষজ্ঞরা। আজ বুধবার রাত পৌণে ৮টার দিকে নদীর রাউজান ১১ নম্বর পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমের ঘাট এলাকা থেকে মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত এই ডলফিনটির দৈর্ঘ্য ৭.৫ ফুট। ৪-৫ মন ওজনের এটি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পশ্চিম গুজরা ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন সাহাবুদ্দিন আরিফ বলেন, ‘নদীর আজিমের ঘাট এলাকায় ডলফিনটি ভাসতে দেখলে স্থানীয় লোকজন আমাকে খবর দেন। এরপর আমি সেখানে গিয়ে আমার লোকজন দিয়ে নদী থেকে ডলফিনটি উদ্ধার করে নদী পাড়ে আনি। পরে ইউএনও আবদুস সামাদ সিকদার ও হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজরুল কিবরিয়াকে খবর দিই। তাদের পরামর্শে মরা ডলফিনটি একাংশ কেটে তার মাংস পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের পরীক্ষাগারে (অধ্যাপক ড. মনজরুল কিবরিয়ার কাছে) পাঠিয়ে দিই। পরিবেশের যাতে ক্ষতি না হয় সে জন্য ডলফিনটির বাকী অংশ মাটিচাপা দেওয়া হয়।’
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজরুল কিবরিয়া বলেন, ‘উদ্ধারকৃত ডলফিনটির ঠোঁটের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। ঠোঁটের দাঁতগুলোও ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটা অনেকটা হত্যাকাণ্ডের মতো। হয়তো জালে আটকে যাওয়ায় ডলফিনটিকে জাল থেকে ছাড়াতে হত্যা করা হতে পারে। সেটির মাংস আমাদের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। আমরা ময়নাতদন্ত করে দেখবো।’
তিনি আরো বলেন ‘এনিয়ে হালদায় ৩৭তম মরা ডলফিন উদ্ধার হলো। এর মধ্যে গত ১৪ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাউজান পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গহিরা এলাকার বুড়িসর্তা খালে মৃত ডলফিনটি ভেসে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। ভাসমান ওই ডলফিনটির ওজন ছিল ১২০ কেজি।’
জানা যায়, গত ২০১৭ সেপ্টেম্বর মাস থেকে বুধবার পর্যন্ত হালদার ৩৭টি ডলফিন নানা কারণে মারা গেছে।

















