ভোগ্যপণ্য সিন্ডিকেটের মূল্য সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করা সময়ের দাবী: সুজন

201

ভোগ্যপণ্যের সিন্ডিকেটের মূল্য সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করা সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। আজ রবিবার (২০ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত মত প্রকাশ করেন সুজন।

Advertisement

এসময় তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ভোগ্যপণ্যের দাম সাধারন জনগনের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে নানামূখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে আসছেন এবং সেভাবে দিকনির্দেশনাও প্রদান করছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাস্তবসম্মত পদক্ষেপগুলো ভন্ডুল করতে সবসময় চক্রান্ত করে একটি সুবিধাবাদী চক্র। দেখা যাচ্ছে যে একটি ভোগ্যপণ্য সিন্ডিকেট নিজেদের ইচ্ছেমতো বাজার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা একেক সময় একেক অজুহাতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে। অপরদিকে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ আজ সর্বসাধারণের প্রাণের দাবী। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে কতিপয় শিল্পগ্রুপ বর্তমানে ভোগ্যপন্য সিন্ডিকেটের সাথে সরাসরি যুক্ত রয়েছে। যারা ছলে বলে কৌশলে সরকারের সাথে জনগনের দূরত্ব সৃষ্টি করতে চায় তারা এ ধরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। এদের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোন শক্ত অবস্থান দেখতে পাচ্ছে না সাধারন জনগন। দেখা যায় যে কয়দিন পর পরই হঠাৎ করেই জনগনের ব্যবহার্য নিত্যপণ্য গুলোর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়।

বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা ও ময়দার স্বাভাবিক সরবরাহ বাঁধাগ্রস্ত করে ঐ সিন্ডিকেট গোষ্ঠী। তাই এসব ভোগ্যপণ্য সিন্ডিকেটদের কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে হবে। নচেৎ এসব সিন্ডিকেট গোষ্ঠী দেশে যে কোন সময় যে কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। আর এদের বাজার কারসাজির কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশাল উন্নয়ন কার্যক্রম ম্লান হতে পারে বলেও আশংকা প্রকাশ করেন সুজন।

আমরা আরো খবর পাচ্ছি আমনের ভরা মৌসুমেও চালের দাম বেড়েই চলছে। নগরীর পাহাড়তলী এবং চাকতাই চালের বাজারে প্রতি বস্তা চালে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ চালের এ ভরা মৌসুমে দাম সহনীয় পর্যায়ে রেখে ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার কথা। কিন্তু তা না করে ভোক্তাদের পকেট কাটার উৎসব শুরু করেছে মোকাম মালিক এবং বিভিন্ন শিল্পগ্রুপসমূহ। এতে করে আবারো চাপে পড়বেন মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণীর ভোক্তাগণ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা প্রদান করলেও মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাবে বেপরোয়া হয়ে পড়েছে এসব মোকাম মালিক এবং ভোগ্যপণ্যের বাজার দখল করতে আসা শিল্পগ্রুপসমূহ। এদের নৈরাজ্য রুখে দেওয়ার এখনই সময়। তাই এসব ভোগ্যপণ্য সিন্ডিকেট, মোকাম মালিকসহ বিভিন্ন শিল্পগ্রুপকে যে কোন মূল্যে বাজারে পর্যাপ্ত পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাধ্য করতে হবে। পাশাপাশি সারা বছর চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা ও ময়দার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতে বিশেষ সরবরাহ কার্যক্রম চালু করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগী হওয়ার অনুরোধ জানান খোরশেদ আলম সুজন।

Advertisement