শুধুই কি বৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে ডুবছে দক্ষিণ চট্টগ্রাম?

27

বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় উৎপত্তি হাঙ্গর খালের। বর্ষা এলেই পাহাড়ি ঢলের বিশাল জলরাশি এই খাল বেয়ে নেমে আসে সমতলে। লোহাগাড়া উপজেলার জঙ্গল পদুয়া ও ফরিয়াদিকূল এবং সাতকানিয়ার ছদাহা ও কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খালটি ডলু খালের সঙ্গে মিলিত হয়। খালের সেই পানি সাঙ্গু নদীতে গিয়ে পড়ার কথা।

Advertisement

কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। একসময় পাহাড়ি ঢলের স্বাভাবিক নিষ্কাশন পথ হিসেবে পরিচিত হাঙ্গর খালের শেষ অংশ এখন অনেকটাই অস্তিত্বহীন। কোথাও পলি জমে ভরাট, কোথাও দখল, কোথাও সংকীর্ণ নালায় পরিণত হয়েছে। ফলে পাহাড় থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ পানি নদীতে পৌঁছানোর আগেই আটকে যাচ্ছে লোকালয়ে। এরই পরিণতিতে বছরের পর বছর দক্ষিণ চট্টগ্রামের (পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশসহ বিভিন্ন এলাকা নিয়ে গঠিত) বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার শিকার হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাঙ্গর খালের শেষ অংশ সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের অংশ একেবারে সংকীর্ণ হয়ে গেছে। ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসে কার্যত বিলীন হয়ে গেছে। এরপর এটি মাহালিয়া বিলে গিয়ে মিশলেও সেই প্রবাহও এখন আগের মতো নেই। শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি থাকে না, বর্ষায় আবার অতিরিক্ত পানি ধারণের সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে প্লাবিত হলেও ২০২৩ সালে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। সেইবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনকে দায়ী করেছিলেন স্থানীয়রা। তবে এবার পার্শ্ববর্তী বাঁশখালী উপজেলাও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। তাই বন্যার নতুন কারণ খুঁজতে থাকেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ বাঁশখালী দিয়ে তো আর রেললাইন নেই।

ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, খালের শেষের অন্তত তিন কিলোমিটার অংশ এখন আর খালের মতো নেই। পলি জমে ও ভরাট হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। উজানে একাধিক স্লুইসগেট রয়েছে। শুকনো মৌসুমে একেবারে পানি থাকে না। আবার বর্ষায় পাহাড়ি ঢল নামলেও নিচের অংশে পানি চলাচলের মতো অবস্থা নেই। ফলে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। দ্রুত খাল খনন না করলে প্রতিবছরই এই দুর্ভোগ চলবে।

একই চিত্র সাতকানিয়া উপজেলার অন্যান্য খালের ক্ষেত্রেও। সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও তাসনীম ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, তাদের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গড়াল খাল একসময় নৌযান চলাচলের উপযোগী ছিল। এখন সেটিও মৃতপ্রায়।

তিনি বলেন, ২০ বছর আগেও এই খালে নৌকা চলত। কেরানিহাট থেকে নতুন খাল পর্যন্ত একটি প্রশস্ত খাল ছিল। এখন তার অস্তিত্বই নেই। অনেকেই শুধু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনকে দায়ী করছেন। কিন্তু বাস্তবে সেটিই একমাত্র কারণ নয়। নদী-খাল ভরাট হয়েছে, বড় বড় দিঘি ও পুকুর ভরাট হয়েছে, কৃষিজমি ভরাট করে বসতি গড়ে উঠেছে। ফলে পানি যাওয়ার স্বাভাবিক পথগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া দিয়ে প্রবাহিত ডলু খাল এবং এর অসংখ্য শাখা খালও দীর্ঘদিন ধরে খননের বাইরে রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ডলু খালের অনেক অংশে চাষাবাদ হয়। বর্ষা এলেই সেই খাল পাহাড়ি ঢলের পানি বহন করতে ব্যর্থ হয়। একইভাবে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীর বিভিন্ন নদী, খাল ও শাখা খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে প্লাবিত হলেও ২০২৩ সালে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। সেইবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনকে দায়ী করেছিলেন স্থানীয়রা। তবে এবার পার্শ্ববর্তী বাঁশখালী উপজেলাও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। তাই বন্যার নতুন কারণ খুঁজতে থাকেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ বাঁশখালী দিয়ে তো আর রেললাইন নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়ায় সাঙ্গু, ডলু ও অন্যান্য নদীর তলদেশে বিপুল পরিমাণ বালি ও পলি জমেছে। এতে নদীর নাব্যতা ও পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। ফলে অতিবৃষ্টির সময় নদী দ্রুত উপচে পড়ে এবং সেই পানি আবার দ্রুত নামতেও পারে না।

তাছাড়া অতীতে বন্যা হলে পানি দু-একদিনের ব্যবধানে নেমে যেত। কিন্তু এবার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ জনপদ এখনো পানির নিচে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর, আবার কোথাও বুকসমান পানি। ডুবে আছে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় নেই।

গত কয়েক দিনে সরেজমিনে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে, স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, এই বন্যার পেছনে শুধু অতিবৃষ্টি নয়, দীর্ঘদিনের পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা, নদী-খাল ভরাট, নিয়মিত খননের অভাব, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কারণ দক্ষিণ চট্টগ্রামকে ক্রমেই একটি স্থায়ী বন্যা-ঝুঁকির অঞ্চলে পরিণত করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাতকানিয়ার পশ্চিম ঢেমশা, এওচিয়া, বাজালিয়া, কেঁওচিয়া, লোহাগাড়ার পদুয়া ও চুনতি, চন্দনাইশের দোহাজারী এবং বাঁশখালীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে এখনো ঘরের ভেতরে পানি। কোথাও রান্নাঘর অচল, কোথাও টিউবওয়েল ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকেরা নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলের ক্ষেত দেখিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন।

সাতকানিয়ার পশ্চিম ঢেমশা গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল কাদের বলেন, ছোটবেলা থেকে বন্যা দেখছি। আগে দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি নেমে যেত। এবার এক সপ্তাহের বেশি হয়ে গেল, এখনো ঘরে পানি। মনে হচ্ছে পানি বের হওয়ার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের কথায় বেশি উঠে এসেছে পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীরা নিজেদের স্বার্থে প্রাকৃতিক নিষ্কাশন পথ ও স্লুইস গেট বন্ধ বা সীমিত করে রেখেছেন। পাহাড়ি মিঠাপানি ঘেরে ঢুকলে মাছের ক্ষতি হয়—এই আশঙ্কায় তারা পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছেন। এতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল দীর্ঘ সময় ধরে লোকালয়ে আটকে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সাঙ্গু, ডলু ও সংশ্লিষ্ট নদীগুলোর নিয়মিত ড্রেজিং, শাখা খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জলাশয় সংরক্ষণ, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং রেল ও সড়ক অবকাঠামোয় পর্যাপ্ত পানি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে মৎস্যঘেরের নামে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের অনেক নদী, খাল ও স্লুইস গেট আগের কার্যকারিতা হারিয়েছে। কোথাও পলি জমেছে, কোথাও অবৈধ দখল, আবার কোথাও দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাঙ্গু ও ডলু নদীর সঙ্গে সংযুক্ত বহু খাল আগের মতো প্রশস্ত নেই। দুই তীরে গড়ে উঠেছে স্থাপনা, কোথাও ময়লা-আবর্জনা ফেলে প্রবাহ সংকুচিত করা হয়েছে। যে খালগুলো একসময় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাহাড়ি ঢলের পানি নদীতে পৌঁছে দিত, সেগুলোর অনেকই এখন কার্যত অকার্যকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়ায় সাঙ্গু, ডলু ও অন্যান্য নদীর তলদেশে বিপুল পরিমাণ বালি ও পলি জমেছে। এতে নদীর নাব্যতা ও পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। ফলে অতিবৃষ্টির সময় নদী দ্রুত উপচে পড়ে এবং সেই পানি আবার দ্রুত নামতেও পারে না।

বন্যার দীর্ঘস্থায়িত্বের আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ ও বিভিন্ন উঁচু সড়ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক স্থানে পর্যাপ্ত কালভার্ট না থাকায় রেললাইন ও সড়ক বাঁধের মতো কাজ করছে। এতে পাহাড়ি ঢলের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এবারের বন্যাকে আরও জটিল করেছে বঙ্গোপসাগরের জোয়ার। অতিবৃষ্টির সময় সমুদ্রের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু থাকায় সাঙ্গু ও ডলু নদী দিয়ে বন্যার পানি দ্রুত সাগরে নামতে পারেনি। ফলে নিম্নাঞ্চলে দিনের পর দিন পানি আটকে থাকে।

বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গা থেকে চট্টগ্রাম একটু ভিন্ন। এখানে যেমন জোয়ার ভাটার প্রভাব আছে, তেমন মানুষের কার্যক্রমের কিছু প্রভাব আছে। এবছর চট্টগ্রাম বন্যা হওয়ার অন্যতম কারণ রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি। এর সঙ্গে জোয়ারের পানি যোগ হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, নদী, নালা, পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া। পাহারকাটা ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন করার কারণে পানির প্রবাহের জায়গাগুলো সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে গেছে ➤ড. কাজী মো. বরকত আলী, অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা গত এক দশকে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একসময় শত শত পুকুর, বিল, নিচু জমি ও জলাভূমি অতিরিক্ত পানি ধারণ করত। এখন আবাসন, বাজার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনার জন্য সেসব জায়গার বড় অংশ ভরাট হয়ে গেছে। একইসঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য শাখা খাল ও পাহাড়ি ছড়া। ফলে বৃষ্টির পানি মূল নদীতে পৌঁছানোর আগেই লোকালয়ে আটকে যাচ্ছে।

পার্বত্য এলাকায় পাহাড় কাটার ফলে আলগা মাটি ও বালু বর্ষার সময় নেমে এসে নদী-খাল দ্রুত ভরাট করছে। এতে নদীর গভীরতা কমে যাচ্ছে এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান দুর্বল নিষ্কাশনব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের পানি ব্যবস্থাপনা নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। কোথায় কীভাবে পানি প্রবাহিত হয়, কোথায় বাধা তৈরি হয়েছে এবং কোথায় নতুন নিষ্কাশন পথ প্রয়োজন—এসব বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত হাইড্রোলজিক্যাল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) চট্টগ্রামের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান বলেন, প্রবাহ কমে যাওয়ায় অনেক খাল এরইমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। আমরা কিছু খাল খননের কাজ করেছি। সামনে আরও একটি প্রকল্প আসছে। ওই প্রকল্পের আওতায় সব শাখা খাল চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে। এতে খালগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে এবং বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সাঙ্গু, ডলু ও সংশ্লিষ্ট নদীগুলোর নিয়মিত ড্রেজিং, শাখা খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জলাশয় সংরক্ষণ, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং রেল ও সড়ক অবকাঠামোয় পর্যাপ্ত পানি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে মৎস্যঘেরের নামে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গা থেকে চট্টগ্রাম একটু ভিন্ন। এখানে যেমন জোয়ার ভাটার প্রভাব আছে, তেমন মানুষের কার্যক্রমের কিছু প্রভাব আছে। এবছর চট্টগ্রাম বন্যা হওয়ার অন্যতম কারণ রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি। এর সঙ্গে জোয়ারের পানি যোগ হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, নদী, নালা, পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া। পাহারকাটা ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন করার কারণে পানির প্রবাহের জায়গাগুলো সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের রেললাইনও এই বন্যার অন্যতম কারণ। এর জন্য আমাদের অনেক ভুগতে হবে। বান্দরবান বা পাহাড়ি বিশাল এলাকার বৃষ্টির পানি বের হতে পারবে না। এজন্য বিভিন্ন ব্রিজ বাড়ানো ও ছোট ব্রিজ বড় করতে হবে। চতুর্থত, বিভিন্ন ঘের, অপরিকল্পিত ভবন, পাহাড় কেটে ধস নেমে বিভিন্ন চ্যানেল বন্ধ বা সংকুচিত হয়ে যাওয়ার ফলে বন্যা হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এক মাস কোনো বৃষ্টি হচ্ছে না। আবার এক মাস প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বন্যা দেখা দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, বিলীন হয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি বড় খাল পুনরায় খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে এই খালসহ আরও কয়েকটি খাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)ও কিছু খাল খনন করছে। এসব খাল খনন করা হলে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বন্যার প্রভাব অনেকটাই কমে আসবে বলে আমি মনে করি।

Advertisement