নাম মো.রিয়াদ বিন সেলিম। পটিয়া পৌরসভার পাইকপাড়া এলাকার মো.সেলিম উদ্দীনের ছেলে। স্কুল বয়সে নিজেকে মানবাধিকার নেতা পরিচয় দিয়ে প্রতারণায় তার পদযাত্রা। এরপর মানুষকে সাহয্যের কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করে বিত্তবৈভবের মালিক। মাত্র ২৪ বছর বয়সে প্রতারণার মাধ্যমে দুটি বিয়ে করে হাতিয়ে নেন প্রচুর টাকা।নিজেকে সেনাবাহিনী, র্যাব, ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা, ইঞ্জিনিয়ার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার, এস আলম গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা ইত্যাদি পরিচয়ে নানা প্রতারণায় পটু এ যুবক। তার প্রতারণার স্টাইল সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে।
অবশেষে শুক্রবার রাতে নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকা থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭) তাকে গ্রেফতার করেন।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো.মাহবুব আলম জানিয়েছেন, গ্রেফতার রিয়াদ বিন সেলিম পেশায় মূলত একজন গাড়ি চালক। সে গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) কর্মরত একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ড্রাইভার হিসেবে চাকরি করে। এ সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাজ করে দেওয়ার আশ্বাসে টাকা নেয়। প্রথমে ডিবি অফিসার পরিচয়ে প্রতারণা শুরু করে। ২০১৯ সালে রিয়াদ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পদবীর ভুয়া ১টি পরিচয়পত্র প্রস্তুত করে। সেই পরিচয়পত্র দিয়ে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের আওতাধীন বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা লাভের চেষ্টা করে। একইসঙ্গে কখনো ইঞ্জিনিয়ার, কখনো ইষ্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার, কখনো বনে যায় এস আলম গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা।
‘সবশেষে র্যাবের কর্মকর্তা সেজে ০১৭৭৭ (র্যাবের সরকারি নম্বর) সিরিজের একটি সিম সংগ্রহ করেন এবং তার এ মোবাইল নাম্বারের সাথে র্যাব ফোর্সেস এর মনোগ্রাম যুক্ত করেন। পাশাপাশি এ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ ও কন্টাক্টে লিখে তা সেইভ করেন। পরে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট ও মামলার কথা বলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধি ব্যক্তিবর্গকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারে চট্টগ্রামের র্যাব কর্মকর্তার পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতাররণার চেষ্টা করেন।’
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো.নুরুল আবছার জানান, গ্রেফতার রিয়াদ আবু সুফিয়ান নামে এক ব্যক্তিকে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ করে মামলা দায়ের ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির হুমকি দেয়। আবু সুফিয়ান এ ব্যাপারে র্যাব-৭ এ লিখিত অভিযোগ করলে প্রতারক রিয়াদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। নগরের চান্দগাঁও থানাধীনহাজীর পোল এলাকার একটি বাড়ির ২য় তলায় অবস্থান করার খবর পেয়ে গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সেনাবাহিনীর ক্যামোফ্লাজ রঙের একটি ব্যাগের মধ্য থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও অন্যান্য ব্যাগ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নকল পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়।
র্যাব জানায়, তার বিরুদ্ধে নগরের চকবাজার থানায় নারী-নির্যাতনের মামলা আছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তাকে চান্দগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
















