শারুনসহ আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ব্যাংকার মোরশেদের স্ত্রীর

940

চট্টগ্রামের ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল মোরশেদ চৌধুরীর স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাংসদ ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরীসহ অন্য অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

Advertisement

শনিবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।

ইশরাত জানান, হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী ও সাবেক ছাত্রনেতা আরশাদুল আলম বাচ্চুর চাপ, হুমকি ও হামলার কারণে নিরুপায় হয়ে ব্যাংকার আবদুল মোরশেদ চৌধুরী আত্মহত্যা করেছে। ২০১০ সাল থেকে মোরশেদ তাঁর আপন ফুফাতো ভাইদের সঙ্গে ব্যবসা করছিলেন। কোনো নথিপত্র ছাড়া তাঁরা মোরশেদকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ দেন। তিনিও তাঁদের ৩৫ কোটি টাকা শোধ করেন। ২০১৮ সালের দিকে এসে তিনি ওই ব্যবসার কথা পরিবারের অন্যদের জানান এবং বলেন, তিনি আর ব্যবসাটা করতে চান না।

ইসরাত আরও জানান, এই ঘটনায় শারুন চৌধুরীর আগমন ২০১৯ সালের মে মাসে। এক দিন শারুন তার স্বামীকে (মোরশেদ চৌধুরী) ফোন করে রেডিসন হোটেলে দেখা করতে বলে। মোরশেদ এতে আপত্তি করে বলেন, তার (শারুন চৌধুরীর) সাথে কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন নেই। তারপরও কেন তিনি দেখা করতে বলছেন। জবাবে শারুন চৌধুরী বলেন, লেনদেন নেই, এখন হবে। এর কিছুক্ষণ পরেই শারুন আরো ১০ থেকে ১২ জন যুবককে নিয়ে তাদের বাসায় যান। ভিডিও ফুটেজে শারুনকে দেখা না গেলেও, মোরশেদের ফুফাতো ভাই পারভেজকে দেখা যায়। তাদের ভবনের নিরাপত্তারক্ষীদের আটকে রেখে ওই যুবকরা বলে, গাড়ির ভেতরে শারুন চৌধুরী বসে আছেন। ওই সময় মোরশেদ চৌধুরী বাসায় ছিলেন না। তিনি তার আত্মীয় আজম খানের বাসায় ছিলেন। আজম খানই লেনদেনের বিষয়টি দেখভাল করছিলেন। কিছুক্ষণ পরে শারুন চৌধুরীও হাজির হন আজম খানের বাসায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোর্শেদ চৌধুরীর সাথে শারুন চৌধুরীর সরাসরি কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন না থাকলেও পারভেজ ইকবাল ও জাবেদ ইকবালের মাধ্যমে শারুন চৌধুরী ব্যবসার অর্থ বিনিয়োগ করেন বলে তিনি শুনেছেন। দেশজুড়ে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হলে শারুন আত্মগোপনে যান, এরপর থেকে তিনি আর সরাসরি কোনো বৈঠকে হাজির হননি।

মোরশেদ চৌধুরী আত্মহত্যা করার আগে চার পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোট রেখে যান। সুইসাইড নোটের একটি অংশে লেখা ছিল, আল্লাহ আমাকে রক্ষা করবে, আরেকটু দেখি, আরেকটু দেখি করতে করতে দেনার গর্তটা অনেক বেশি বড় হয়ে যাচ্ছে। যারা কোনো টাকাই পেত না, তাদের দিতে গিয়ে এখন সত্যিকারের দেনায় জর্জরিত। বেঁচে থাকলে এই দেনা আরো বাড়বে। তা ছাড়া পরিচিতগুলোই এখন চেপে ধরেছে বেশি। এই লোড আমি আর নিতে পারছি না, সত্যি পারছি না।

মোরশেদ চৌধুরীর মৃত্যুর পরদিন তার স্ত্রী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও সাত-আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিরা হলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক জাবেদ ইকবাল, তাঁর ভাই পারভেজ ইকবাল, নাঈম উদ্দীন সাকিব ও যুবলীগ নেতা শহীদু হক চৌধুরী রাসেল।

Advertisement