বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ট্রাডিশনাল চাকরি না করে চাকরি তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো: কামাল উদ্দিন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব ও ফিউচারনেশনের যৌথ আয়োজনে “এম্পলয়াবিলিটি মাস্টার ক্লাস এণ্ড স্কলারশিপ এওয়ার্ডিং সেরেমনি” অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি সাফায়েত জামিল নওশানের সভাপতিত্ব নাসাতুন মিসকাত নাবেরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আল আমীন, চবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের মডারেটর জনাব আফজালুর রহমান।
রোববার (১৫ই ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে তিন টায় “ইউএনডিপি বাংলাদেশ” এর অর্থায়নে ফিউচারন্যাশন প্রজেক্ট ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের যৌথ আয়োজনে চবি আইন অনুষদের এ কে খান মিলনায়তনে এ মাস্টারক্লাস অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য বলেন, পৃথিবীতে আমরা জব তৈরি না করে জব খুঁজছি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচিৎ জব তৈরি করা। তারা ডেটল বিক্রেতা হবে না, বরং ডেটল উৎপাদন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ট্রাডিশনাল কাজ করবে, এটা কী করে হয়? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তো কাজ তৈরি করবে, যা পরিবর্তন আনবে সমাজে। আমাদের ক্যারিয়ার বিল্ড-আপ করার ক্ষেত্রে কলোনিয়াল চিন্তাভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একজন মানুষের প্রত্যেকটা জায়গায় স্কিল ডেভেলপ করতে হবে। তিনি বলেন, পৃথিবীতে এমন কোনো পেশা নেই, যে পেশাকে ছোট করে দেখতে হবে। আমার কাছে একজন দূর্নীতিপরায়ণ প্রোভিসি থেকে একজন ক্লিনার উত্তম। আজকে ক্যারিয়ার ক্লাব যে কাজটি করছে, তা হলো বিশ্ববিদ্যালয় ইন্ডাস্ট্রির সাথে যুক্ত হবার কাজটি করছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের জেনারেশনে বাবারা ভুল করলে আমরা চুপ থাকতাম, কিন্তু বর্তমান জেনারেশন সেটা ধরিয়ে দেয়, এটাই জেন-জির বৈশিষ্ট্য।”
“এম্পলয়াবিলিটি মাস্টার ক্লাস” পরিচালনা করেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশনস আব্দুল কাইয়ুম। তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল ও হার্ড স্কিলগুলো বাড়ানোর পাশাপাশি কমিউনিকেশন, নেটওয়ার্কিং পার্সোনাল ব্র্যান্ডিংয়ের উপর আলোচনা করেন। তিনি বলেন, কমিউনিকেশন হলো সফলতার চাবিকাঠি। এটি মানুষের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করে, দ্বন্দ্ব দূর করে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে। সবসময় নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। নেটওয়ার্কিং বিল্ড করতে হবে। ১০ বছর পর আমি কোথায় যাব, তা নির্ধারণ করে দেয় আমার বর্তমান কার্যকলাপ। তোমাদের সফট স্কিল ও হার্ড স্কিলগুলো বাড়ানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি সময় ব্যবস্থাপনা এখন থেকে শিখতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশ্ন নেয়ার মাধ্যমে তার মাস্টার ক্লাস সমাপ্ত করেন।
উক্ত আয়োজনে ফিউচার ন্যাশন নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ফিউচার ন্যাশনের ক্যাম্পাস ফ্যাসিলিটেটর সাজ্জাদ হোসেন ও রিজিওনাল ফ্যাসিলিটেটর কবির হোসেন।
চটগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের প্রায় ৪৫০ শিক্ষার্থী উক্ত আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।
















