যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও রেল ভ্রমণকে আরামদায়ক করার লক্ষ্যে কিছু পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এরই ধারাবাহিকতায়, রেলওয়ের চলমান আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় এরইমধ্যে দেশের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ পুরোনো রেক পরিবর্তন করে নতুন রেক সংযোজন করা হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, পুরোনো রেক বিদায় করে নতুন ও আধুনিক কোচ যুক্ত করার ফলে যাত্রীসেবার মান যেমন বেড়েছে, তেমনি রেল ভ্রমণ এখন অনেক বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরামদায়ক করতে এরইমধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব জেলা স্টেশনে রিমডেলিং করার মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে নারী ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য রেলসেবা আরও সহজলভ্য করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন এবং নারীদের জন্য আলাদা কাউন্টার ও স্বতন্ত্র টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধার্থে প্রতিটি স্টেশনে হুইল চেয়ার ও র্যাম্পের সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানামার সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বিনা টিকিটের যাত্রী নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনগুলোতে ফেন্সিং নির্মাণ করার পাশাপাশি, ট্রেনের ভেতরে মানসম্মত খাবার ও অনবোর্ড সুবিধাও জোরদার করা হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪৯টি জেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় চলে এসেছে এবং বাকি ১৫টি জেলাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রেল ব্যবস্থা গড়তে ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে যার প্রথম চালানে ২০টি কোচ ২০২৬ সালের মে মাসের শেষ সপ্তাহে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আরও ২৬০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ সংগ্রহ, ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ এবং ২০০টি মিটারগেজ ক্যারেজসহ রিলিফ ট্রেন ও আধুনিক লেদ মেশিন সংগ্রহসহ বিভিন্ন প্রকল্প ও সমীক্ষা শেষ পর্যায়ে রয়েছে যা রেলওয়ের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

















