সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা এড. ফখরুদ্দিন চৌধুরীকে মঞ্চে বসানোকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রফিকুল ইসলাম।
জানা যায়, সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবস উপলক্ষে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে আসনে বসেন আওয়ামী সমর্থিত সাবেক জেলা পিপি এড. ফখরুদ্দিন চৌধুরী। এসময় অনুষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফর নেছা বেগম। হঠাৎ করে মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে ফখরুদ্দিন চৌধুরীকে মঞ্চে ডাকেন বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুর।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে এ ঘটনাকে আওয়ামীলীগকে পুন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বলে অভিহিত করেন। আর এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দোষারোপ করেন অনেকে। অপর দিকে এক ভিডিও বার্তায় এ ঘটনায় বিভ্রান্তি না ছড়াতে অনুরোধ জানিয়েছেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও বিএনপি নেতা আবুল মুনসুর।
সেখানে তিনি বলেন,“ফখরুদ্দিনকে জাতীর একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান ও প্রবীণ ব্যক্তি হিসাবে মঞ্চে বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এখানে কেউ কোন রাজনৈতিক পরিচয়ে মঞ্চে উঠেনি। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা উপজেলা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তার কোন সম্পৃক্ততা নেই।” বক্তব্যে কাউকে এ বিষয় বিভ্যান্ত না হওয়ারও আহবান জানান তিনি। আবুল মনসুর বলেন, “জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে আমি ফখরুদ্দিনকে মঞ্চে উঠার আহ্বান জানিয়েছি। এখানে কারো কোন রাজনৈতিক পরিচয়ে মঞ্চে ওঠার সুযোগ নেই। জাতীয় অনেক প্রোগ্রামে বিগত আওয়ামী লীগ আমলে আমি মঞ্চে বক্তব্য রেখেছিলাম। কই তখন তো কেউ বলেনি আওয়ামী লীগের মঞ্চে আমি বিএনপি নেতা হয় কেন উঠলাম? ”
এদিকে এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন,“ ৩৫০ জন মুক্তিযোদ্ধার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয় মনে রাখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি অনুষ্ঠানে বক্তব্য এবং অন্যান্য সব বিষয়ে মুক্তিযাদ্ধার সাবেক কমান্ডার আবুল মুনসুরের উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। তাকে এ বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল যাতে বিতর্কিত কোন ব্যক্তি মঞ্চে উঠার সুযোগ না পায়। কিন্তু তিনি ফখরুদ্দিন নামের একজনকে মঞ্চে উঠানোর কারণে আমাকেও বিব্রত হতে হচ্ছে। এটি তিনি কেন করেছেন আমি তা খতিয়ে দেখছি।”

















