Benchmark! মানদন্ড! Mistake has great values!: চবি প্রক্টর

283

আমরা যখন আমাদের নিজেদেরকে সেরা ভাবতে শুরু করি আর পৃথিবীর সকল মানুষকে নিজের সাথে তুলনা করি তখন অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। কারণ আমি আমার ভালো, খারাপ, ত্রুটি, বিচ্যুতি, সব কিছুকে মানদন্ডে সেরা ভাবতে শুরু করি; ফলে আমার দৃষ্টিতে আমার কোন ত্রুটি নাই আর আমার আশেপাশের সকল মানুষ ত্রুটিতে পরিপূর্ণ। তাদের ভালো দিকগুলো আমার ভালো দিকের সাথে তুলনা করলে মনে হবে খারাপ, এমনকি তাদের খারাপগুলো আমার খারাপের সাথে তুলনা করলে মনে হবে আমার খারাপ অনেক ভালো।

Advertisement

এমনটা কেন হয়? কারণ আমরা অন্যের ভিন্ন চিন্তা, ভিন্ন কর্ম, ভিন্ন ভাবনাকে সহজে মেনে নিতে পারি না, আমরা চাই সবাই আমার মতন হোক, সবাই আমার মতন ভাবুক, তারা আমাকে অনুসরণ করুক। আমরা অন্যের ভুলকে কত বড়ভাবে দেখি, নানাভাবে প্রচেষ্টা চালায় অন্যের ভুলসমূহ প্রমাণ করতে, অন্যের মাঝে অনুভূতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করি সে ভুল, কিন্তু নিজের ভুল কি দেখতে পাই? কখনো নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি।

পৃথিবীর সকল মানুষের মাঝে আমি যা দেখতে চাই সেটা নিজের মাঝে কি প্রতিষ্ঠা করেছি? সবাইকে যতটা সহানুভূতিশীল হতে বলি নিজে কি ততটা সহানুভূতিশীল? অন্যের মাঝে ক্ষমার দৃষ্টান্ত দেখতে চাই, নিজে কি ক্ষমা করি?

শুধু আমার বাসায় সেরা রান্না হয়? নাকি আরো অনেকের বাসার রান্না সেরা হয়? শুধু আমার সংস্কৃতি সেরা? নাকি প্রত্যেকের নিজস্ব সংস্কৃতিকে আমরা সেরা মনে করব?

আমি, আমি, আমি, এই আমি আমাদের শেষ করছে। আমাদের শত শত মানবিক মূল্যবোধগুলোকে শুধু এই একটা আমি শেষ করে দিচ্ছে। আমি হতে বের হতে না পারলে আমাদের মুক্তি নাই। একজনের বিপদে আরেকজন এগিয়ে আসা যদি দায়িত্ববোধ না হয়, তাহলে এগিয়ে আসার দরকার নেই। এগিয়ে আসার পর যদি মনে হয় আমি সহানুভূতি প্রকাশের জন্য এগিয়ে এসেছি এমন সহানুভূতির প্রয়োজন নাই।

আসুন আমি হতে আমরা বলতে শিখি, কারণ বিভিন্ন সময়ে আমরা প্রত্যেকেই বিপদে পড়েছি এবং একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছি, সেটা বলে বেড়ানোর জন্য নয়, সেটা দায়িত্ববোধ হতে, সেটা মানবিক মূল্যবোধ হতে।

আমার এই লেখা আমার মা-বাবা, কোন কোন বন্ধু এবং গুরুজন আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছিলেন তার আলোকে লেখা, আমার এই লেখা আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের কাছে আমি যে শিক্ষা পেয়েছি তার আলোকে লিখা, পরিবেশ আমাকে যা শিখিয়েছে তার আলোকে লিখা। সমস্যা হলো কতখানি আমি শিক্ষিত হতে পেরেছি?

আমার কঠিন সমালোচক যারা তাদের অনেকেই কিন্তু আমার বন্ধু তালিকার অংশ অর্থাৎ তারা কঠিন সমালোচনার মাধ্যমে আমাকে সঠিক পথে থাকার অনুপ্রেরণা দেয় বলেই তারা আমার বন্ধু তালিকায় আছে। সমালোচনা আর মিথ্যাচার এক নয়, ফ্যাসিবাদী শক্তির অস্ত্র ছিল মিথ্যাচার, মিথ্যা প্রপাগান্ডা, সাধারণ নিরীহ মানুষদের জঙ্গি বানিয়ে হত্যা করার মতন নৃশংসতা তারা দেখিয়েছে। সমালোচনা আর সার্কাজম এক নয়। ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থে নিজের বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রায় প্রত্যেকটি ঘটনা এবং কর্মকে যারা সার্কাজমে পরিণত করে তারা সমালোচক নয়, তারা নিজেরাই তাদের পরিচয় প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সময়।

অনেকে মিলে কাজ করার পর আমরা ভুলে গেলাম ঐসব মানুষের কথা যারা প্রকাশ্যে এবং গোপনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল! সত্য ও সততা নির্ভর সমালোচনা ওইসব মানুষের মতন যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের মাঝে অনেক সময় উত্তর থাকে, এমন প্রশ্নগুলো অবান্তর।

সীমিত যোগ্যতা এবং সাধ্যের মাঝে সবাই মিলে চেষ্টা করতে পারি। ভালো কিছু হলে সৌভাগ্য, আর না হলে দুর্ভাগ্য। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী সবার বৃহত্তর অংশ ভালো কিছু হোক সেই প্রত্যাশা করছে, এমনটি দেখছি। পরিশেষে বলতে পারি ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা থাকবে, দর্শন থাকবে, কিন্তু কাজের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিও থাকবে। ঠিক কর্পোরেট কালচারের মতো শত রকমের সংস্কৃতির, ধর্মের, বর্ণের মানুষ এসে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কাজ করতে হয়, ইচ্ছে মতন যে যার মত কাজ করলে কর্পোরেট কালচার হয় না।

Advertisement