চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আমানত হলে “শহীদ মামুন স্মৃতি পরিষদ” এর আয়োজনে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী, শাহ্ আমানত হল ছাত্রশিবিরের শহীদ সেক্রেটারি মামুন হোসাইনের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল রবিবার (১২ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আমানত হল ছাত্রশিবিরের সভাপতি সৈকত হোসেনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমানত হল ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল গালিব (এপিপি), প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ, বায়তুলমাল সম্পাদক হা. মুজাহিদুল ইসলাম, সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ ইসহাক ভূঁইয়া, মানবাধিকার সম্পাদক আব্দুল্লাহ হাজারী সহ শাখা নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভার শুরুতে শহিদ মামুন হোসাইনের জীবনী ও হত্যাকাণ্ডের ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। প্রধান আলোচক আব্দুল্লাহ আল গালিব মামুন হোসাইনের হত্যাকাণ্ডের নিষ্ঠুর দৃশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের প্রত্যক্ষ সহায়তায় আমানত হলের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে হামলা ও গুলি করা হয়। এই হামলায় রাহাত ও রকি সহ মোট ৭ জন শিবির নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের নির্মমভাবে আহত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, শহীদ মামুন ইনসাফ ও ন্যায়নীতির কথা বলতে গিয়ে শাহাদাতবরণ করেছেন। ছাত্রশিবির নিষ্ঠুর অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে তাঁদের কাজ অব্যাহত রেখেছে। চব্বিশের ছাত্রজনতার বিপ্লব আল্লাহর সাহায্যে জাতিকে সেই আওয়ামী ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মুহাম্মদ ইবরাহীম বলেন, একসময় ক্যাম্পাসগুলোতে শিবির সন্দেহে হত্যা করা জায়েজ ছিল। প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ক্যাম্পাসগুলোকে সন্ত্রাস, অরাজকতা ও মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত করে কথিত শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী ছাত্রলীগ। যারা হলে শিক্ষার্থীদের চাকর বানানোর তৎপরতায় ব্যস্ত ছিল। শহিদ মামুন হোসাইন ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত এ ক্যাম্পাসে যেন আর কোনো সংগঠন অস্ত্রের ঝনঝনানি, মাদকাবাণিজ্য ও ত্রাস সৃষ্টি করতে না পারা সেই আশা ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভা শেষে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

















