বিজনেস আইডিয়া কনটেস্টে চ্যাম্পিয়ন চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি রানার্সআপ ফাইনান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং

558

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী ইস্পাহানী–দৃষ্টি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস আইডিয়া কনটেস্ট “ব্রেইনস্টর্মিং ২০২৫”। আয়োজনের গ্র্যান্ড ফাইনাল ৩১ মে সন্ধ্যায় ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ এবং রানার্স আপ হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ।

Advertisement

চার রাউন্ডের এ প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্বে ছিল-আবর্জনাকে ব্যবসা উপযোগী পণ্যে রূপান্তর, নতুন উদ্ভাবিত পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ, পুরোনো ও বর্তমানে অলাভজনক ব্যবসায়িক পণ্যকে লাভজনক হিসেবে ফিরিয়ে আনার জন্য রিব্র্যান্ডিং।

চূড়ান্ত পর্বে এবারের প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল এমন একটি নতুন ব্যবসার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা, যা বর্তমানে চট্টগ্রামে নেই, যার জন্য আমরা বিদেশের ওপর নির্ভরশীল এবং সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকার মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য।

দৃষ্টি চট্টগ্রামের আয়োজনে উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসা পরিকল্পনা, প্রসার-প্রচার এবং ব্র্যান্ডিং সংক্রান্ত এটি চট্টগ্রামের একমাত্র আয়োজন, যা বিগত ১৫ বছর যাবৎ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০টি দল অংশগ্রহণ করে।

চূড়ান্ত পর্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চিটাগাং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি দল জায়গা করে নেয় এবং নিজেদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে।

চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের দক্ষতা ও নতুন আইডিয়া দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ফারিহা আহমেদ রাইসা, আবদুর রহমান ও রিনভি নুসরাত প্রাপ্তির সমন্বয়ে গঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের দল “টিম ডাইভারসাম”।

তারা চট্টগ্রামে উন্নত চিকিৎসা সেবা ও রোগ নির্ণয়ের সুযোগের অভাব তুলে ধরে এমন একটি ব্যবসা মডেল উপস্থাপন করে, যেখানে ভারত ও ঢাকামুখী চিকিৎসা নির্ভরতা হ্রাস পাবে। তাদের প্রস্তাবিত সেবার মধ্যে রয়েছে ক্যান্সার নির্ণয়, অটিজম/ডিএমডি/ট্রাইসেমি ২১ সহ বিভিন্ন জিনগত রোগ নির্ণয়, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিং-এর মাধ্যমে সংক্রামক জীবাণু শনাক্তকরণ, গর্ভবতী মায়েদের বিভিন্ন জেনেটিক পরীক্ষা-যা বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভারতে নমুনা পাঠিয়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে ঢাকাতেই করতে হয়।

প্রথম রানার্স আপ হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের দল “এফবিডিএ ফাইন্যান্সিয়াল ফানিস”। তারা পুরোনো বা অব্যবহৃত কনটেইনার ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পড হাউজ নির্মাণের পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। এই ঘরগুলো পর্যটন এলাকায় অস্থায়ী আবাসন, শ্রমিকদের জন্য বাসস্থান কিংবা স্টুডেন্ট হোস্টেল হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী হবে।

চূড়ান্ত পর্বে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্পোরেট কনসালট্যান্ট আহমেদ জিবরান, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ইউসুফ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন এবং কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব তাহরিন তারান্নুম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি সাইফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্পাহানী গ্রুপের ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম শিপলু, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটির সদস্য বৃজেট ডায়েস, দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল এবং দৃষ্টি চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি কসসাফুল হক শেহজাদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির বলেন, “চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা আজ প্রমাণ করেছে, তারা শুধু চাকরিপ্রত্যাশী নয় বরং উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা অর্জন করেছে। তাদের প্রস্তাবিত আইডিয়াগুলো বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।”

দৃষ্টি চট্টগ্রামের আয়োজনে ও ইস্পাহানী গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রতিযোগিতা চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Advertisement