চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আমানত হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলের অব্যবস্থাপনা ও সংস্কারবিহীন অবস্থার প্রতিবাদে ৯ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনের ডাক দেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে মেধার ভিত্তিতে আমানত হলে আসন বরাদ্দ দেওয়া হলেও ১১ মাস পার হওয়ার পরও হলের রিডিং রুম, ওয়াশরুম, পানির ব্যবস্থা, ছাদ সংস্কার, সাইকেল স্ট্যান্ডের অভাব, লকার ও আসবাবপত্রের সংকটসহ নানাবিধ সমস্যা রয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও প্রভোস্ট কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি, ফলে তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ই জুলাই) দুপুর ২টা থেকে হলের গেট বন্ধ করে আন্দোলন শুরু করে আমানত হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এসময় বিভিন্ন স্লোগানে আমানত হল মুখরিত হতে থাকে।
আনুমানিক দুপুর সাড়ে ৩ টার দিকে আমানত হলের সিনিয়র হাউজ টিউটর ড. আব্দুল আলিম আসেন। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শুনেন এবং পরবর্তীতে তা যাচাই করতে সরেজমিনে হল পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ ও সহকারী প্রক্টররা ডাইনিংয়ে উপস্থিত হয়ে পরিবেশ ও সরঞ্জামের সংকট পরিদর্শন করেন। পরে পানির হাউজ, রিডিং রুম ও অন্যান্য সমস্যাযুক্ত স্থান ঘুরে দেখেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে প্রক্টোরিয়াল বডির উপস্থিতিতে সিনিয়র হাউজ টিউটর ড. আব্দুল আলিম শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির যৌক্তিকতা মেনে নিয়ে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, আগামীকাল থেকে ৩-৪টি দফা বাস্তবায়ন শুরু হবে এবং বাকিগুলো ১ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের ২০-২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদ বলেন, “প্রশাসনকে ১ আগস্টের মধ্যে আমাদের দাবি পূরণ করতে হবে। না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।”
শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি:
১. রিডিং রুমের জরুরি সংস্কার করা।
২. হলে সাইকেল স্ট্যান্ড নির্মাণ করা।
৩. ওয়াশরুম সংস্কার ও নিয়মিত পরিষ্কার নিশ্চিত করা।
৪. ছাদের ভাঙা অংশ মেরামত করা।
৫. পানির ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার করা।
৬. হল থেকে স্বৈরাচারী চিহ্নসমূহ অপসারণ করা।
৭. রুমের লকার, দরজা ও জানালা মেরামত করা।
৮. হলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা।
৯. নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা।
প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত থাকলেও দাবি পূরণ না হলে শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

















