চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার এর সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর ২০২৫) বেলা ১১টায় চবি উপাচার্য দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের দুই বিশিষ্ট গবেষক প্রফেসর ড. কেইসাকু হিগাশিদা (স্কুল অব ইকোনমিক্স, কানসেই গাকুইন বিশ্ববিদ্যালয়, হিয়োগো) এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. ইউকি হিগুচি (ফ্যাকাল্টি অব ইকোনমিক্স, সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, টোকিও)। সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
এসময় দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং পরিবেশ ও বনসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমরা গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণাকর্মের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছি। অনেকগুলো দেশের সাথে যৌথভাবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণামূলক কাজ করছে। এসময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
উপাচার্য বলেন, আমাদের চিন্তা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে। উপাচার্য যৌথভাবে গবেষণামূলক কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অতঃপর অতিথিরা ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।
তাদের এ সফর তিন বছর মেয়াদি যৌথ গবেষণা প্রকল্প “Enhancing the Conservation Capacity of Forest Management through Competition and Cooperation”-এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা জাপান সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এজেন্সি (JST) দ্বারা অর্থায়িত। গবেষণাটি চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের গ্রামীণ যৌথ বন (Village Common Forests–VCFs) সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর কেন্দ্রীভূত, যা স্থানীয়ভাবে পাড়াবন বা মৌজাবন নামে পরিচিত এবং পাহাড়ি ঝরনা ও জলাধারের সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বন সংরক্ষণ ও জলনিরাপত্তা বৃদ্ধি করা এবং এই উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে অংশ নেবে। সার্কেল চিফ এবং ভিসিএফ নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি ও বন সংরক্ষণ কমিটির কাছ থেকে তথ্য ও সহায়তা পাবেন।
সফরটি সমন্বয় করেন চবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের পরিচালক এবং ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, এই সহযোগিতা কেবল বন ও জলসম্পদ সংরক্ষণে নয়, বরং বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে গবেষণা ও একাডেমিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করবে।

















