২০২৫ সালে স্কোপাস-ইনডেক্সড জার্নালে চবির রেকর্ড সংখ্যক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত

172

গবেষণার বৈশ্বিক মানদণ্ডে নতুন উচ্চতা স্পর্শ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মোট ৬১৫টি গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ‘স্কোপাস-ইনডেক্সড’ (Scopus-indexed) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রকাশনার রেকর্ড।

Advertisement

বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর গবেষণা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। চবি গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দপ্তর গবেষণায় শিক্ষকদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে। চবি আইকিউএসিও গবেষণাধর্মী বিভিন্ন সভা-সেমিনার নিয়মিত আয়োজন করছে। সর্বোপরি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের গবেষণাবান্ধব নানা কার্যক্রম, উদ্যােগের ফলে এমন সাফল্য অর্জন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি স্কোপাস ডাটাবেজের তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকদের এই তালিকা ও পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে চবি রিসার্চ এন্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটি। মোট ৬১৫টি প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে রিসার্চ আর্টিকেল, রিভিউ আর্টিকেল, কনফারেন্স প্রসিডিংস এবং রিসোর্স অ্যানাউন্সমেন্ট। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রবন্ধ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ও অত্যন্ত প্রভাবশালী জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট’ (The Lancet) এবং ‘নেচার কমিউনিকেশন্স’ (Nature Communications)-এ প্রকাশিত হয়েছে। ৩টির অধিক প্রকাশনা করে শীর্ষ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষক। গবেষণায় সবচেয়ে এগিয়ে ছিল চবির রসায়ন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ এবং ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট।

অনুষদগুলোর মধ্যে এককভাবে সর্বাধিক প্রকাশনা এবং সর্বোচ্চ Q1 (শীর্ষ ২৫ ভাগ জার্নাল) মানসম্পন্ন প্রবন্ধ প্রকাশ করে শীর্ষে রয়েছে জীববিজ্ঞান অনুষদ। আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণা সবচেয়ে বেশী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও সৌদি আরবের সাথে। প্রকাশিত গবেষণাকর্মগুলোর ৫৫% অর্থায়ন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও প্রকাশনা অধিদপ্তর। নারী গবেষকদের মধ্যে শির্ষে আছেন মল্লিকা রায়, নওরিন মনির প্রমা, ডঃ ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী এবং ডঃ আসমা বিনতে শফিক।

গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাথে সবচেয়ে বেশি যৌথ গবেষণা (Collaboration) সম্পন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, সৌদি আরব এবং অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের সাথে। এই তালিকায় শুধু তাদের গবেষণা প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যাদের প্রবন্ধে University of Chittagong এফিলিয়েশন হিসেবে রয়েছে। উল্লেখ্য, এর বাইরেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য শিক্ষক ২০২৫ সালে মানসম্পন্ন জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রবন্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ না থাকায় তা এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

২০২৫ সালের স্কোপাস ইনডেক্সড পাবলিকেশন ভিত্তিক শীর্ষ ১০ গবেষকের তালিকা:

১ম স্থানে যৌথভাবে রয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এবং ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলম। ২য় স্থানে রয়েছেন রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. এস. এম. আবে কাউছার। ৩য় স্থানে রয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুল আলীম। ৪র্থ স্থানে রয়েছেন ফার্মেসি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল হোসাইন ও রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. ফয়সল ইসলাম চৌধুরী এবং ৫ম স্থানে রয়েছেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের অলি আহমেদ ও ফার্মেসি বিভাগের এস. এম. মোয়াজ্জেম হোসেন। ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. শফীকুল ইসলাম এবং ৭ম স্থানে রয়েছেন ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ নাথ।

৮ম স্থানে রয়েছেন চারজন গবেষক: হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আফতাব উদ্দিন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হাসান খালেদ রউফ, বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. তড়িৎ কুমার বল এবং অর্থনীতি বিভাগের মল্লিকা রায়। ৯ম স্থানে থাকা গবেষকরা হলেন—বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. আদনান মান্নান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. কাজী তানভীর আহম্মদ রনি ও ড. মো. শাহ আলম, রসায়ন বিভাগের ড. মো. কামরুল হোসেন, ফার্মেসি বিভাগের নওরীন মনির প্রমা এবং গণিত বিভাগের রাজীব কর্মকার।

১০ম স্থানে রয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. রেজাউল আজিম, মেরিন সায়েন্সস ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ফজলুল কাদের, ফিশারিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আজম খান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ড. মো. মাহবুব হাসান, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ড. আজিজুল হাকিম, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মুহাম্মদ জাকারিয়া, ফার্মেসি বিভাগের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ইব্রাহিম খলিল আল হায়দার।

২০২৫ সালের স্কোপাস ইনডেক্সড পাবলিকেশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন অনুষদের শীর্ষ গবেষকদের তালিকা নিম্নরুপ:

জীববিজ্ঞান অনুষদ:

এই অনুষদের শীর্ষ গবেষকরা হলেন ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলম ও প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ নাথ। ফার্মেসী বিভাগ থেকে রয়েছেন ড. মোহাম্মদ কামরুল হোসাইন, এস. এম. মোয়াজ্জেম হোসেন এবং নওরীন মনির প্রমা ও মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম। মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. অলি আহমেদ এবং মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. শফীকুল ইসলাম ও ড. আজিজুল হাকিম তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এছাড়া বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো: আতিয়ার রহমান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. আদনান মান্নান ও ড. মো. মাহবুব হাসান এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ড. মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী ও ইব্রাহিম খলিল আল হায়দার এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

সমাজবিজ্ঞান, এবং

সমাজবিজ্ঞান অনুষদে রয়েছেন অর্থনীতির মল্লিকা রায়, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতার মুহাম্মদ জাকারিয়া, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, সমাজতত্ত্বের ড. মো: মাসুদ-আল-কামাল এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. খাদিজা মিতু।

কলা ও আইন অনুষদ: কলা ও আইন অনুষদ থেকে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ড. ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী এবং আইন বিভাগের প্রফেসর ড. আসমা বিনতে শফিক এই গৌরব অর্জন করেছেন।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ:
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে শীর্ষ গবেষক হিসেবে রয়েছেন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. মো: আফতাব উদ্দিন ও মো. কফিল উদ্দিন। ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে রয়েছেন সেতু রঞ্জন বিশ্বাস, প্রফেসর ড. মো. সাহিদুর রহমান এবং শারমিন আক্তার। এছাড়া অ্যাকাউন্টিং বিভাগের মো. তাহাছিনুল আবেদীন, ফিন্যান্স বিভাগের প্রফেসর ড. এস. এম. শোহরাবুদ্দীন, মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর ড. শান্ত বনিক এবং ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের মোহাম্মদ রিফাত রহমান তালিকায় রয়েছেন।

ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজ্ঞান অনুষদ:

ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুল আলীম, ড. কাজী তানভীর আহাম্মদ রনি, ড. মো. শাহ আলম ও প্রফেসর ড. মো: ফজলুল কাদের এবং প্রফেসর ড. হাসান খালেদ রউফ।

বিজ্ঞান অনুষদ থেকে রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. এস. এম. আবে কাউছার, প্রফেসর ড. ফয়সল ইসলাম চৌধুরী ও ড. মো. কামরুল হোসেন স্থান পেয়েছেন। এছাড়া ফরেস্ট্রি ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. তড়িৎ কুমার বল, গণিতের রাজীব কর্মকার, পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. রেজাউল আজিম এবং পরিসংখ্যান বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর উল্লেখযোগ্য গবেষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

মেরিন সায়েন্সস এন্ড ফিশারিজঃ
মেরিন সায়েন্সস ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, প্রফেসর ড. এস. এম. শরীফুজ্জামান ও ড. জুয়েল দাস এবং ফিশারিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আজম খান রয়েছেন।

Advertisement