নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১১-২০ গ্রেড এর সরকারি কর্মচারী ফোরাম এর উদ্যোগে চতুর্থ দিনের বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।
১১ থেকে ২০ তম গ্রেড কর্মচারীদের আহ্বায়ক মোঃ মাহবুবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল এর বিভিন্ন শাখা শ্রেণীর কর্মচারীরা অবস্থান ও কর্ম-বিরতিতে অংশ গ্রহণ করেন।

দীর্ঘ ১০ থেকে ১১ বছর পর্যন্ত কর্মচারীরা পে স্কেল থেকে বঞ্চিত। কর্মচারীদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য তারা তাদের সঠিক মর্যাদা ও কর্মমূল্য সরকারের কাছে পেতে চায়। সকল ধরণের বৈষম্য প্রত্যাহার করে অবিলম্বে কর্মচারীদের স্ব গঠিত পে কমিশন বাস্তবায়ন করার জন্য জোর দাবি জানান ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম আজ সকাল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের কর্ম বিরতি এবং বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে এক পর্যায়ে তারা শহীদ শাহজাহান মাঠ সংলগ্ন টাইগার পাস ও পাহাড়তলী অভিমুখী সড়ক ব্লক করে দেয়। কিছু সময় পর খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ১১থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরামের সদস্যদেরকে আহ্বান জানান যে আপনারা আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে জনস্বার্থে এখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেন, পরবর্তীতে ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের কর্মচারীরা সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের নির্দিষ্ট কর্মসূচি বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগীয় কন্ট্রোল অফিসের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেলওয়ের কারিগর পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদনা এস কে বারী, প্রচার সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন, রেল শ্রমিক দলের সিসিএস পাহাড়তলী শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন, ডিজেল সপ শাখার সভাপতি মোহাম্মদ রুবেল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাদ্দাম হোসেন, কারখানার শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল কবীর, ডিআরএম শাখা চট্টগ্রাম রেল শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ আব্দুল মালেক , সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাউসার আলম, সরঞ্জাম শাখা পাহাড়তলী,রেল শ্রমিক দলের সভাপতি আবু তালেব, চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক কমিটির এর সদস্য সচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ইসমাইল, নুরুন্নবী, মাহবুবুর আলম, আরিফ মির্জা, আবু মনসুর খান, দেলোয়ার হোসেন সুমন, শরিফ, রেলওয়ের সর্বশ্রেণীর শ্রমিক ও কর্মচারী নেতৃবৃন্দ।

রেল শ্রমিক দলের সিসিএস শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, যে বৈষম্যের জন্য দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে সর্বদলীয় ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, জনতার আন্দোলন হয়েছে বৈষম্য দূর করার জন্য। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বৈষম্য নিরসন না হয়ে সেই বৈষম্য আজো রয়ে গেল।
কামাল হোসেন আরো বলেন, দেশের সর্বোচ্চ মহল যদি পে কমিশনের কমিটি গঠনের নামে তালবাহানা করে এবং মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন মিটিং এর নামে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সেই পে কমিশন বাস্তবায়ন না করে, তাহলে কেন দেশের সর্বোচ্চ মহল কর্মকর্তারা সময় বিলম্বিত করেছিল। এটা কেবল নেহাত কর্মচারীদের সঙ্গে ঠাট্টা এবং মশকরা ছাড়া আর কিছুই নয়।
সকল নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে উঠে আসে প্রয়োজনে দাবি আদায় না হলে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেলওয়ের চাকা ঘুরানো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

















