চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন ও প্রসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর শাসনামলেই ফাজিল ও কামিলকে যথাক্রমে ডিগ্রি ও মাস্টার্সের সমমান প্রদান করা হয়েছিল, যা এ দেশের আলেম সমাজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ এবং মাদরাসা শিক্ষার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
মঙ্গলবার বিকেলে পূর্ব লোহাগাড়া বটতলা হেফজখানা ও এতিমখানা মাদ্রাসায় বেগম খালেদা জিয়ার নামে নবনির্মিত একটি ভবন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
শিক্ষা খাতে বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ডা. শাহাদাত বলেন, বেগম জিয়া কেবল মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়নই করেননি, বরং কওমি মাদরাসার ‘দাওরা’ সনদকে স্বীকৃতি দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর সময়েই নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করা হয় এবং প্রায় দুই কোটি ছাত্রীকে উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়। নকলমুক্ত পরীক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন এবং শিক্ষকদের পদোন্নতি ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিলেন।
মেয়র আরও উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রামে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন প্রতিষ্ঠা এবং মেয়েদের জন্য বিশেষায়িত ক্যাডেট কলেজ ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন বেগম জিয়ার দূরদর্শী শিক্ষানীতিরই প্রতিফলন।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশংসা করে মেয়র বলেন, তিনি ছিলেন আপসহীন দেশপ্রেমের প্রতীক। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি সংকটে তিনি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়েই দেশে বারবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। উপস্থিত সকলে সূরা ফাতিহা ও দরুদ শরিফ পাঠের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।
অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জিয়া, মাওলানা আবু বকর, সভাপতি মাওলানা নাজিম উদ্দিন, সহ সভাপতি মুজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর, মহানগর যুবদল নেতা মোহাম্মদ করিম মিয়া, মহানগর ওলামাদলের মাওলানা আবুল হায়াত নকশবন্দী, নুরুল আমিন, এস্তাফিজুর রহমান, শহীদুল আলম। উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির অর্থ সম্পাদক মো. শাহআলম, প্রচার সম্পাদক মো. ইসমাইল, সহ সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম, নুরুল ইসলাম, জাহাঙ্গির আলম, আব্দুর রহিম, সৈয়দ আহমদ, নজির আহমদ, আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

















