হেমোরয়েড, যা সহজ ভাষায় পাইলস নামে পরিচিত খুবই কমন কিন্তু অস্বস্তিকর একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। এই সমস্যা নিয়ে অনেকেই কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন। তবে এই সংকোচের কারণে অনেক রোগী দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করিয়ে সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলেন। পাইলস কোন জটিল রোগ নয় এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিশ্বব্যাপি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫০% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ জীবনের কোন না কোন সময়ে পাইলসে আক্রান্ত হন। বিশেষ করে, ৪৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে দীর্ঘসময় বসে কাজ করা, শারীরিক পরিশ্রম কম করা এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
পাইলস মূলত মলদ্বারের ভেতরের বা বাইরের শিরা ফুলে যাওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়। এই ফোলা শিরাগুলোতে চাপ পড়লে রক্তপাত, ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভূত হয়। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে; মলত্যাগের সময় রক্ত পড়া, মলদ্বারে চুলকানি, জ্বালাপোড়া অনুভূতি এবং কিছু ক্ষেত্রে বাইরে ছোট ফোলা অংশ অনুভব করা। রোগের অবস্থা অনুযায়ী মাঝে মধ্যে ব্যথা এতটাই তীব্র হতে পারে যে দৈনন্দিন কাজকর্মেও সমস্যা হয়।
এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে যখন কেউ দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন, পর্যাপ্ত পানি পান করেন না, কম ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার খান অথবা দীর্ঘসময় ধরে বসে থাকেন। গর্ভাবস্থায় শরীরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার কারণে অনেক নারীর পাইলস দেখা দিতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলসের চিকিৎসা সাধারণত সহজ হয়। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, বেশি পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এর থেকে উপশম পাওয়া যায়। তবে রোগ জটিল পর্যায়ে পৌঁছালে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এখন লেজার সার্জারি এবং স্ট্যাপলার পদ্ধতি ব্যবহার করে পাইলস সারিয়ে তোলা যায়, যা তুলনামূলকভাবে কম যন্ত্রণাদায়ক ও দ্রুত আরোগ্য নিশ্চিত করে।
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে পাইলসের জন্য আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে। এখানে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধায়নে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়, যাতে দ্রুত আরোগ্য ও সর্বোচ্চ আরাম নিশ্চিত করা যায়।
পাইলস কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি একটি নিরাময়যোগ্য রোগ এবং সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব। তাই সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসাই পাইলস নিরাময়ে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
লেখকঃ
প্রফেসর ডা. মো. সাইফুল হক
এমবিবিএস, এফসিপিএস
সিনিয়র কনসালটেন্ট
জেনারেল এন্ড ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম
















