নিউজ ডেক্স | চট্টলা নিউজঃ দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকার পর অবশেষে বাস্তবায়নের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের প্রথম জিটুজি (সরকার-টু-সরকার) ভিত্তিক ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল’ (CEIZ)। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানিয়েছে, আগামী জুনের মধ্যে চীনের মনোনীত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
*প্রকল্পের মূল তথ্য ও অগ্রগতি*
অবস্থান: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা, কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে (কর্ণফুলী টানেলের মাত্র ২ কিমি দূরে)।
আয়তন: প্রায় ৭৮৩ একর।
ব্যয়: প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪,০৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন সরকার থেকে ২২১.১৮ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২,১৩৬ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে পাওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমান অবস্থা: বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানিয়েছেন, আগামী জুনের মধ্যেই ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (CRBC)-এর সঙ্গে জমির ডেভেলপার অ্যাগ্রিমেন্ট সই হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
*কেন এই দীর্ঘ বিলম্ব?*
২০১৬ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। শুরুতে ‘চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি’র কাজ করার কথা থাকলেও তাদের সাথে সমঝোতা না হওয়ায় কয়েক বছর ব্যয় হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে সিআরবিসি-কে নতুন ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করা হয়। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ তৎপরতায় প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
*কী থাকছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে?*
এই জোনে প্রধানত তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে:
১. টেক্সটাইল
২. ফার্মাসিউটিক্যালস (ওষুধ শিল্প)
৩. লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং
এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় নিজস্ব জেটি, সংযোগ সড়ক এবং কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (CETP) নির্মাণ করা হবে।
*অর্থনৈতিক প্রভাব:*
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চালু হলে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) আসবে এবং কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
















