নাড়ির টানে দক্ষিণ চট্টগ্রামে ফিরছে মানুষ

সাতকানিয়ায় ঈদ যাত্রা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কড়া নজরদারি

1

সাতকানিয়া প্রতিনিধি: একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। সময়ের কাঁটা যত ঘনিয়ে আসছে, নাড়ির টানে ঘরমুখী মানুষের স্রোত তত বাড়ছে। ইতিমধ্যেই রাজধানী ও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে নিজ বাড়ি দক্ষিণ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। আপনজনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বারগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ।

Advertisement

​প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ যাত্রায় কিছুটা ভোগান্তির চিত্র ফুটে উঠেছে, তবে এর মধ্যেই সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছে প্রশাসন।

​লক্কড়-ঝক্কড় বাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণপরিবহনে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে গাড়িগুলোতে চলছে গাদাগাদি করে যাত্রী ওঠানোর প্রতিযোগিতা। এর সাথে যোগ হয়েছে মহাসড়কের কিছু পয়েন্টে ধীরগতি আর দীর্ঘ যানজট। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থেকেও প্রিয়জনের মুখ দেখার টানে সব ক্লান্তি ভুলে হাসিমুখে অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা।

​ঈদ এলেই এক শ্রেণীর পরিবহন চালক ও সহকারীদের মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা দেখা যায়। তবে এবার দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রীদের স্বস্তি দিতে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন।

​সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খন্দকার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও বাস টার্মিনালগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

​গণপরিবহনগুলো যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে, সেজন্য কাউন্টারগুলোতে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং অনিয়ম পেলেই তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি গত রাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এর অভিযোগ পেয়ে কেরানিহাটের উত্তর মাথা রেল ক্রসিং এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে আদায় কর অতিরিক্ত ভাড়া যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান​ জানান শুধু ঈদ যাত্রাই নয়, ঈদের এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সেজন্য কাঁচাবাজার ও পশুর হাটগুলোতেও নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে বাজার মনিটরিং টিম নিয়মিত বিভিন্ন হাট-বাজার পরিদর্শন করছে। ​চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, গরম মশলাসহ ঈদের প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যেন অতিরিক্ত মুনাফা লুটতে না পারে, তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতিটি মানুষের ঘরে ফেরা হোক আনন্দের। প্রশাসন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত এই প্রচেষ্টায় সব মিলিয়ে নিরাপদ হোক সবার ঈদ যাত্রা এবং আনন্দময় হোক ঈদ উৎসব এমন প্রত্যাশা সকলের।

Advertisement