চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচল করছে অবৈধ ব্যাটারীচালিত রিক্সা। পুলিশি অভিযানের থামছে না এসব রিক্সার দাপট। ব্যাটারী রিক্সার মালিক ও চালকরা লাভবান হলেও ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়তে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। নগরের নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের প্রধান বাহন হয়ে ওঠা এসব রিক্সা এখন অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সড়কে নিয়ন্ত্রণহীন গতি, অপরিপক্ক চালক, দুর্বল কাঠামো এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। কোনো কোনো ঘটনায় যাত্রীদের গুরুতর আহত হওয়া বা অঙ্গহানির পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
পুলিশের চোখ ফাাঁক দিয়ে মূল সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতেও বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে অবৈধ ব্যাটারীচালিত রিক্সা।
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) চারটি ট্রাফিক জোনের প্রতিদিনের পরিচালিত অভিযানে অবৈধ ব্যাটারী রিক্সা আটক করে ডাম্পিংয়ে নিয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আটক করে রাখা হয়। আটকের নির্দিষ্ট সময় পার হলে ট্রাফিক প্রসিকিউশন থেকে জরিমানা দিয়ে ছাড়পত্রের মাধ্যমে অবমুক্ত করে আবারও মাঠে নামে ব্যাটারী রিক্সা।
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নানা উদ্যোগের মধ্যেই ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা হয়ে উঠেছে এক নীরব সংকটের নাম। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলা এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়ছে চাপ, একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগের কারণে বছরে হারাচ্ছে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশই ব্যয় হচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা ব্যাটারি চার্জে। প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে এ খাতে, যার বড় অংশই নেওয়া হচ্ছে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। ফলে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন শিল্প ও কৃষিখাতে লোডশেডিং দিয়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দেওয়া হচ্ছে, তখন অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রিক্সা চালানো জাতীয় অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে প্রায় ৫০ হাজার এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এক লাখের বেশি রিক্সা রয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম মহানগর ও আশপাশেই প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ ব্যাটারিচালিত রিক্সা চলাচল করছে। প্রতিটি রিক্সার ব্যাটারি চার্জে দৈনিক গড়ে ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যা প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টার সমান।
এ হিসাবে ২৪ ঘণ্টায় জাতীয় গ্রিডে গড়ে ৩৭ থেকে ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যু তের সমপরিমাণ চাপ তৈরি হচ্ছে, যা একটি মাঝারি ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনের সমান। মাসিক হিসাবে এই খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৬ কোটি টাকার বেশি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিপুল বিদ্যুতের বড় অংশই অবৈধ সংযোগ বা মিটার টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহৃত হওয়ায় প্রকৃত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও, বাকলিয়া, চকবাজার, বায়েজিদ, খুলশী, কোতোয়ালি, কর্ণফুলী, ইপিজেড, বন্দর, মইজ্যার টেক, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, হালিশহর ও আকবরশাহ থানা এলাকায় সবচেয়ে বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। চান্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা, কামাল বাজার থেকে কালুরঘাট ব্রিজ এবং ওয়াসা রোড, পাঠাইন্না গোদা থেকে হামিদচর, ওসমানিয়াপুল থেকে সিএন্ডবি এলাকার আশপাশে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার ব্যাটারি রিক্সা চলাচল করছে। একইভাবে বাকলিয়া থানাধীন এক্সেস রোড, চকবাজার ধুনির পুল থেকে রাহাত্তার পুল ও বড় কবরস্থান হয়ে পুলিশ বিট, আব্দুল লতিফ হাট থেকে চেয়ারম্যান ঘাট এবং কোতোয়ালী থানাধীন বাকলিয়া, আন্দরকিল্লা ও টেরিবাজার থেকে কালামিয়া বাজার-বাকলিয়া পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ব্যাটারি রিকশা চলাচল করছে। খুলশী থানাধীন জালালাবাদ থেকে ওয়্যারলেস হয়ে সেগুনবাগান রেলস্কুল ও মামা-ভাগিনার মাজার পর্যন্ত, বিজিএমইএ ভবনের সামনে থেকে ঝাউতলা বাজার হয়ে আমবাগান রেলগেট এবং সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে পলিটেকনিক মোড় পর্যন্ত ৪ থেকে ৫ হাজার ব্যাটারি রিক্সা চলাচল করছে। একইভাবে বায়েজিদ থানাধীন জামশেদ শাহ মাজার রোড, কুলগাঁও আবাসিক এলাকা থেকে খাজা রোড, অক্সিজেন মোড় থেকে আতুরার ডিপু, চন্দ্রনগর, আরেফিন নগর ও বাংলা বাজার এলাকায় ৩ থেকে ৪ হাজার ব্যাটারি রিক্সা চলাচল করছে। নগরীর হালিশহর ও পাহাড়তলী থানাধীন ফইল্যাতলী বাজার থেকে সবুজবাগ পেট্টোল পাম্প, হালিশহর বি-ব্লক শাহজাহান বেকারির সামনে থেকে আশপাশের এলাকা, শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে সাগরপাড়, বণিকপাড়া হরি মন্দির হয়ে পাহাড়তলী থানা এলাকার সাগরিকা রোড এবং আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকার ২৯টি সড়ক পর্যন্ত প্রতিদিন ১৫ হাজারের বেশি ব্যাটারি রিকশা চলাচল করছে। এছাড়া ইপিজেড, বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং এলাকার বিভিন্ন অংশে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার ব্যাটারি রিকশা চলাচল করছে।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যাটারিচালিত রিক্সা চালানো তুলনামূলক সহজ এবং আয়ও বেশি। প্যাডেলচালিত রিক্সা যেখানে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে ৪০ টাকা ভাড়া নেয়, সেখানে ব্যাটারিচালিত রিক্সা একই দূরত্বে ৩০ টাকায় যাত্রী নিতে রাজি হয়ে যায় এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে যায়। ফলে কম সময়ে বেশি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব এবং চালকের আয় বাড়ে। তবে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতায় চালকদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
একজন ব্য্যাটারীরিক্সা চালক বলেন, আধাবেলা রিকশা চালালেই দিনে ১৫ থেকে ১৬টি ট্রিপ দিয়ে প্রায় ১০০০ টাকা আয় করা যায়। গ্যারেজগুলোতে এখন ব্যাটারিচালিত রিক্সা বেশি। চালাতে আরাম, আয়ও ভালো। অবৈধের বিষয়টা গ্যারেজ মালিকরা জানে।
তবে মালিক ও চালকরা লাভবান হলেও ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়তে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। নগরের নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের প্রধান বাহন হয়ে ওঠা এসব রিক্সা এখন অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সড়কে নিয়ন্ত্রণহীন গতি, অপরিপক্ক চালক, দুর্বল কাঠামো এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। কোনো কোনো ঘটনায় যাত্রীদের গুরুতর আহত হওয়া বা অঙ্গহানির পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের এসব অটোরিকশা চালকেরা মূলত হতদরিদ্র পরিবার থেকে বা পরিবারের ভরণপোষণ করছে। বয়সের দিক থেকে ১৫-২৫ বছরের যুবকরা অধিকাংশ, প্রায় ৫০-৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশ চালক নানা কারণে বিশেষ করে মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত-অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা করছেন।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু অভিযান বা জরিমানার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ব্যাটারিচালিত রিক্সার উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণ পর্যায় থেকেই কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। পাশাপাশি বৈধ কাঠামোর মধ্যে এনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। নইলে বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে ব্যাটারিচালিত রিক্সা হয়ে উঠতে পারে দেশের জন্য আরও বড় অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি।
এদিকে মহানগরের অলিগলি ও উপশহরজুড়ে গড়ে উঠেছে হাজারো ব্যাটারি চার্জিং গ্যারেজ। স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব গ্যারেজে আবাসিক সংযোগের আড়ালে বা সরাসরি অবৈধ লাইনে চার্জ দেওয়া হচ্ছে। একটি রিকশা চার্জসহ রাখার জন্য ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে-অনেক ক্ষেত্রে মিটার বাইপাস করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরকারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল) কামাল উদ্দিন আহমেদ আমাদের প্রতিবেদক রনজিত কুমান শীলকে বলেন, অবৈধ সংযোগের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের বিদ্যুতের চাহিদা মূলত আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। গরমের সময় বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। চট্টগ্রামে সাধারণত ৬০০ মেগাওয়াট থেকে সর্বোচ্চ ১১০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে।
ব্যাটারিচালিত রিক্সায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এটিকে সরাসরি বিদ্যুতের অপচয় বলা যাবে না, কারণ এটি নগরবাসীর যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে নিম্নআয়ের ও হতদরিদ্র অনেক পরিবার এসব রিক্সার আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ ২০২৫ সালে মহানগরের প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা খুব কম। প্রতিদিন অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। সিএমপির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিযান চললেও শিগগিরই সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া এ প্রসঙ্গে আমাদের প্রতিবেদক রনজিত কুমার শীলকে বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা যাতে নগরীর প্রধান সড়কে চলাচল করতে না পারে, সে বিষয়ে সিএমপির স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং প্রতিদিনের অভিযানে অবৈধ ব্যাটারী রিক্সার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ব্যাটারী রিক্সা প্রসঙ্গে সিএমপি’র ট্রাফিক-উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার নেছার উদ্দীন আহমেদ (অতিরিক্ত ডিআইজি) এ প্রতিবেদককে বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা আনয়নে ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। মূল সড়ক ও মূল সড়ক লাগোয়া আশপাশের সড়ক ও অলিগলিতে চলাচলকারী ব্যাটারী রিক্সার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ট্রাফিক উত্তরের এলাকাধীন যেখানে যেখানে ব্যাটারী রিক্সা ও অবৈধ গাড়ি চলচল করছে সেখানে পুলিশ হানা দিচ্ছে।
ব্যাটারী রিক্সা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক-বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার কবীর আহম্মেদ বলেন, বন্দর জোনের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী অবৈধ ব্যাটারীচালিত রিক্সার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এলাকার টিআই ও সার্জেন্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সিএমপি’র ট্রাফিক-পশ্চিম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার নিস্কৃতি চাকমা বলেন, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে যে সকল ব্যাটারী রিক্সা মূল সড়কে উঠছে, সেগুলো আটক হচ্ছে, এমনকি মূল সড়কের পাশাপাশি অলিগলিতেও অবৈধ রিক্সার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত রয়েছে। অভিযানে আটককৃত ব্যাটারী রিক্সাগুলো নির্দিষ্ট সময় ধরে ডাম্পিংয়ে রাখা হয়।
সিএমপি’র ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান বলেন, বাকলিয়া, নতুন ব্রীজ, আন্দরকিল্লা, কোতোয়ালী মোড়, চকবাজার ও টেরিবাজার থেকে কালামিয়া বাজার পর্যন্ত মূল সড়কে ব্যাটারী রিক্সা চলাচল করতে দেখলেই পুলিশের হাতে আটক হচ্ছে। ব্যাটারী রিক্সা আটকের বিষয়ে অভিযান আরও জোরদার করতে টিআই ও সার্জেন্টদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

















