দক্ষিণ চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্যোগে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে, তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সংকট দেখা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির নেতা মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী (পাপ্পা)। তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের হাতে খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী (পাপ্পা) বলেন, “দেশের যেকোনো দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় দুঃখী মানুষের পাশে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তাঁর নির্দেশনায় আমরা বন্যাকবলিত মানুষের পাশে রয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “বাঁশখালীর দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নিয়মিত নেওয়া হচ্ছে। যেসব পরিবার এখনো সহায়তা পায়নি, তাদের কাছেও পর্যায়ক্রমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”
ত্রাণ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং কোনো দুর্গত পরিবার যেন সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী (পাপ্পা) দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত সংগঠক হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রজীবনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির অভিভাবক হিসেবে পরিচিত সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান। পিতার রাজনৈতিক আদর্শ, জনসেবার দর্শন ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। দলের কঠিন সময়ে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও জরুরি চিকিৎসাসেবার সংকটে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পর্যায়ক্রমে আরও খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।















