অস্ট্রেলিয়াকে হতাশ করে ডারউইনে বাংলাদেশের স্বপ্নের প্রথম দিন

30

দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম দিনটা স্বপ্নের মতো কেটেছে বাংলাদেশের। সাদা পোশাকের পরাশক্তিদের ১৯৮ রানে অলআউট করার পর ব্যাট হাতেও দারুণ জবাব দিয়েছে লাল সবুজরা।

Advertisement

প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে সাদমান ইসলামের উইকেট হারালেও তানজিদ হাসান তামিম ও মমিনুল হকের ব্যাটে দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা। দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৯৬ রান, অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১০২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

ডারউইনে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিকরা। শুরুটা আক্রমণাত্মক হলেও টাইগার পেসারদের তোপে ২০০ রানের আগেই গুটিয়ে যায় টেস্টের পরাশক্তিরা। বিশেষ করে এক হাসান মাহমুদই তাদের নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছেন।

দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে শুরুটা করেন টাইগার পেসার। দলীয় ৪৫ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ২২ রানের ইনিংস খেলে হাসানের বলে বোল্ড হন জ্যাক ওয়েদারেল্ড। এরপর তিনি স্থায়ী হতে দেননি আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডকেও। ৩৭ বলে ২৩ রান করে তার বলে কট বিহাইন্ড হন তিনি। এরপর হাসানের সঙ্গে উইকেট তুলে নেয়ার উৎসবে যোগ দেন অন্য দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। ২০ বলে ১ রান করা মার্নাস লাবুশেনকে এবাদত আর ১৩ বলে ১৩ রান করা ক্যামেরন গ্রিনকে ফেরান তাসকিন। তাতে ৭৪ রানের মধ্যে ৪ ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে অজিরা।

একপ্রান্ত আগলে রেখে স্বাগতিকদের কিছুটা স্বস্তি দেন অভিজ্ঞ স্টিভেন স্মিথ। তবে অ্যালেক্স ক্যারি ও বিইউ ওয়েবস্টারদের তার যোগ্য সঙ্গী হওয়ার সুযোগ দেননি তাসকিন ও এবাদত। ৪৩ বলে ১৯ রান করে এবাদতের বলে বোল্ড হন ক্যারি। ১০ বলে ১২ রান করে ওয়েবস্টারকে বোল্ড করেন তাসকিন। পরের গল্পের পুরোটার নায়ক হাসান। ১৫২ রানে ৬ ‍উইকেট থেকে ১৯৮ রানে অলআউট, পরের ৪ উইকেট একাই তুলে নেন হাসান। এর মধ্যে স্মিথকে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের তৃতীয় ফাইফার। ১০৯ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৭১ রানে থামে স্মিথের ইনিংস।

সব মিলিয়ে ১৭ ওভারে ৩ মেডেন নিয়ে ৫৫ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট তুলে নেন হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার সেরা বোলিং ফিগার। অন্য দুই পেসার তাসকিন ও এবাদতও সফল ছিলেন এদিন, তবে উইকেটের দেখা পাননি দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম।

প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতেও দারুণ জবাব দেয় বাংলাদেশ। যদিও শুরুতে রানের খাতা খোলার আগে জীবন পেয়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জশ হ্যাজেলউডের বলে তার ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন নাথান লায়ন। তাতে রানের খাতা খোলার সুযোগ পান এ ওপেনার। অন্যপ্রান্তে আত্মবিশ্বাসী থাকা সাদমান ইসলাম অবশ্য কোনো সুযোগ পাননি। ইনিংসের নবম ওভারে মিচেল স্টার্কের ১৪৩.৪ গতির বলে লিডিং এজ হয়ে কাভার পয়েন্টে ধরা পড়েন তিনি। ৩০ বলে ২ চারের মারে ২০ রানে থামে তার ইনিংস। দলীয় ৩৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় উইকেটে সাবলীল ব্যাটিং করে যান তানজিদ ও মমিনুল হক। তাদের খুব একটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি বিশ্বের অন্যতম আগ্রাসী পেসত্রয়ী মিচেল স্টার্ক-প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউড। প্রথম দিন শেষ করার আগে দুজনে মিলে গড়েন ৬০ রানের জুটি। ৪৯ বলে ৬ চারের মারে ৩৫ রানে মমিনুল আর ৬৭ বলে ৪ চারের মারে ৩২ রানে অপরাজিত রয়েছেন তানজিদ। দ্বিতীয় দিন নিজেদের ছন্দ ধরে রাখতে পারলে লিডের পথেই এগোবে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৬ টেস্ট খেলে ৫টি হেরেছে বাংলাদেশ। পরাশক্তিদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়টি ২০১৭ সালে মিরপুরের মাঠে। টাইগারদের সামনে এবার সুযোগ অজিদের মাটিতেও নতুন ইতিহাস গড়ার।

Advertisement