মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পদচ্যুত করার প্রতিবাদে এবং নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের ‘অনলাইন যোগদান’ প্রত্যাখ্যান করে উত্তাল হয়ে উঠেছে চুয়েট ক্যাম্পাস। এতে বিক্ষোভ, প্রতীকী ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও শিক্ষক সমিতির সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে তীব্র অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও ‘লাল কার্ড’ কর্মসূচির আয়োজন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নতুন ভিসির সশরীরে উপস্থিত না হয়ে অনলাইনে যোগদানপত্র পাঠানোকে কটাক্ষ করে তাকে ‘অনলাইন ভিসি’ আখ্যা দেন তারা। মিছিলে ‘রেড কার্ড টু অনলাইন ভিসি’, ‘রেড কার্ড রেড কার্ড, অনলাইন ভিসিকে রেড কার্ড’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।
এর আগে, শুক্রবারও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস ছিল উত্তপ্ত। জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন (টিএসসি) থেকে প্রতিবাদী সভা, গ্রাফিতি অঙ্কন ও বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি হিসেবে কাকে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’ এবং ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ বলে স্লোগান দেন।
মিছিলে অংশ নিয়ে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ইমেইলে যোগদানপত্র পাঠিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। অধ্যাপক শরীফুল আলমকে আমরা উপাচার্য হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছি।
জানা গেছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে গত চার দিন ধরে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তিনি সশরীরে চুয়েটে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত যোগদানপত্র পাঠান। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তার প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন এবং দিনরাত পাহারা বসিয়েছেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত থেকেই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা, যা পরবর্তীতে সর্বাত্মক রূপ নেয়।
শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি
শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির জরুরি এক ভার্চুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ জানান, প্রফেসর ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে ভিসি পদে পুনর্বহালের দাবিতে আমরা সর্বাত্মক কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে শিক্ষার্থীদের হল ব্যবস্থাপনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি কার্যক্রমগুলো এই কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে।
একইসঙ্গে শিক্ষক সমিতির নেতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্যের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি চুয়েট অফিসার্স সমিতি ও কর্মচারী সমিতিও পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে।
সাবেক ভিসি ড. সায়েমকে স্বপদে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এবং নতুন ভিসির নিয়োগ বাতিল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আগামী দিনগুলোতে দেয়াল লিখন, সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদী সমাবেশের মতো আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই যৌথ অবস্থানের কারণে চুয়েটের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে থমকে গেছে।
















