সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবায়নে ধীরগতি লোকসানের মুখে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক শিল্প

38

​সাতকানিয়া প্রতিনিধি: সরকারি নির্দেশনা মেনে সনাতন পদ্ধতির পরিবেশদূষণকারী ইটভাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ করেছিলেন অনেক উদ্যোক্তা। কিন্তু নির্দেশনা জারির বহু বছর পার হয়ে গেলেও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে এর কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় এখন মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

Advertisement

​জানা গেছে, পরিবেশ সুরক্ষা ও ধানি জমির মাটি রক্ষা করতে ২০২১ সাল থেকে সরকারি সকল উন্নয়নমূলক কাজে সনাতন পদ্ধতির পোড়ানো ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক ব্যবহারের স্পষ্ট নির্দেশনা দেয় সরকার। নির্দেশনায় পর্যায়ক্রমে শতভাগ কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল।

​সরকারের এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারদোনা এলাকায় গড়ে ওঠে ‘শাহ মজিদিয়া কংক্রিট ব্লক ফ্যাক্টরি’এটি আধুনিক ও ব্যয়বহুল প্রজেক্ট। অনেক উদ্যোক্তারা নিজের জমানো সব পুঁজি ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে এসব আধুনিক ব্লকের কারখানা স্থাপন করেন।

​তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে এখনো সনাতন পদ্ধতির ইটের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বহাল রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ সনাতন ইটভাটাগুলোও অবাধে চালু থাকায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লকের বাজার তৈরি হচ্ছে না। ফলে কারখানাগুলো উৎপাদনে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বিক্রি না থাকায় বিপুল পরিমাণ তৈরি ব্লক জমে আছে কারখানায়।

​সাতকানিয়ার বারদোনা শাহ মজিদিয়া কংক্রিট ব্লক ফ্যাক্টরির মতো বিভিন্ন কারখানার মালিকরা জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত বিশ্বাস করে তারা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সরকারি প্রকল্পগুলোতে ব্লক ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলা এবং তদারকির অভাবে তারা এখন দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। প্রতি মাসে ব্যাংক ঋণ ও কর্মচারীদের বেতন মেটাতে গিয়ে বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন তারা।

​উদ্যোক্তাদের দাবি, সরকার যদি অবিলম্বে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে শতভাগ কংক্রিট ব্লকের বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত না করে এবং অবৈধ সনাতন ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই উদীয়মান ও পরিবেশবান্ধব শিল্পটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক সবুজ উদ্যোক্তা নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।

​পরিবেশ রক্ষায় এবং উদ্যোক্তাদের এই বিশাল লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের জারি করা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী উদ্যোক্তারা।

Advertisement