সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর ছয় দফা দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) এর শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মাইশা নিহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথও অবরোধ করেন তাঁরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। আটকা পড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগও।
জানা গেছে, ক্যাম্পাসের সামনে রাস্তা পারাপারের অপেক্ষায় ছিলেন মাইশাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় একটি বাস তাঁদের সামনে এসে দাঁড়ায়। পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দিলে বাসটি উল্টে মাইশার ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা জানান, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা নয়। ক্যাম্পাসের সামনে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। এর আগেও দুর্ঘটনার পর প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের ছয় দফা দাবি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বাদী হয়ে মামলা করতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরির চালককে গ্রেপ্তার এবং চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের দুই পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং প্রধান ফটকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তখন মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ২০১৮ সালেও আমরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছি। এখন আমরা এমন একটি সমাধান চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কারও প্রাণ না যায়। বিচার, জবাবদিহি ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের ছয় দফা দাবি আমরা প্রশাসনের কাছে জানিয়েছি। জেলা প্রশাসক (ডিসি) সরাসরি ঘটনাস্থলে এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং দাবিগুলো লিখিতভাবে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেবেন। লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমরা সড়ক ছাড়ব না। ইউএনও বা পুলিশের আশ্বাসে আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করতে রাজি নই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোস্তফা মনির চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক।বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রশাসনের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কুমিরা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আলম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন। শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু দাবি দিয়েছেন। পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছে।

















