আজ বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস দাবি করে এক সমাবেশের আয়োজন করে নগর বিএনপি। চার থেকে পাঁচটি বাসে করে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা থেকেও নেতা-কর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন।
নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কসহ আশপাশে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সেটি সংঘর্ষে গড়ায়। বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ লাঠিপেটা করে। সমাবেশস্থল থেকে বিএনপির ৪৯ জন নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে পুলিশের বড় ভ্যান না থাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা যেসব বাসে করে সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন, ওই বাসের একটিতে তাঁদের কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় পুলিশের চার ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত বিএনপির ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। আটক ব্যক্তিদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে উল্টো গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যেখানে ৪৯ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আমীর খসরু মাহমুদ বলেন. সরকার এখন যে আলোচনা করছে সেটি আগামী নির্বাচনের ভোট ডাকাতির আলোচনা। এই আলোচনা প্রহসনের। এই আলোচনা জনগণ মানে না।
আমীর খসরু আরও বলেন, বর্তমানে দেশ এমন এক প্রেক্ষাপটে উপনীত হয়েছে যেখানে কোনো গণতন্ত্র নেই। সরকার ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে এখনো পরিপূর্ণ মুক্তি দেননি। তিনি এখন মারাত্মক অসুস্থ। সংবিধানে যেখানে সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, সেখানে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করেছে সরকার।
















