২৫ ফেব্রুয়ারীকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হোকঃ মীর হেলাল

340

ভাষা দিবস ও ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ৫৭ জন সেনা সদস্যকে হত্যার প্রতিবাদে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ইউএই বিএনপি৷ বিএনপির এই অনুষ্ঠান থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শোক দিবসের দাবি জানানো হয়৷

Advertisement

আমিরাত বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ব্যারিস্টার মির হেলাল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে। একুশের চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে ১৯৭১ এ স্বাধীনতা অর্জন ও গণতন্ত্রের পথচলা শুরু, ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের ততকালীন রাষ্ট্রপ্রধান কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে কোন এক সমাবেশে উর্দুকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ছাত্র জনতা কৃষক শ্রমিক শাসক গুষ্টির চাপিয়ে দেওয়া এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তার প্রতিবাদে ঢাকার রাজপথ আন্দোলন সংগ্রামে কাপিয়ে তুলেছেন।

আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবীতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাংগনে ছাত্র জনতার উদ্যোগে যুগান্তকারী পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। ততকালীন ক্ষমতাসীন শোষক গুষ্টি বাংলা মায়ের সন্তানদের প্রাণের দাবী উপেক্ষা করে সকল প্রকার সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে এবং সভাস্থলে ১৪৪ ধারা জারী করে। অকুতোভয় বাংলার দামাল ছেলেরা তাদের কে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে ১৪৪ ধারা ভংগ করে রাজপতের আন্দোলন ও মিছিল কে আরো তীব্রতর করে তুলে। হানাদার শোষক গুষ্টি এদেশের মানুষকে দাবীয়ে রাখতে নির্বিচারে গুলি চালায় নিরস্ত্র ছাত্র জনতার উপর, সালাম, রফিক, জব্বর সহ আরো অনেকের তাজা প্রাণ জড়ে যায় সেদিন তাদের রক্তে রঞ্জিত হয় ঢাকার রাজপথ। অবশেষে শাষক গুষ্টি বাধ্য হয়ে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা ঘোষণা দেন।

তিনি আরো বলেন এত রক্ত দিয়ে স্বাধীন করা দেশে ও পুরোপুরি স্বাধীনতা নেই, সেই ফেব্রুয়ারী ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারী আবারো বাংলাদেশের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে ৫৭ জন চৌকস সেনা অফিসারের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। এসময় তিনি বলেন ২৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হোক এটা সময়ের দাবী। তিনি আরো দাবী করেন শহীদ জিয়ার ঘোষণা’র মাধ্যমেই অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব একমাত্র জিয়া পরিবারের হাতেই নিরাপদ।

তিনি বলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরী আগামীর রাষ্ট্রনায়ক দেশনায়ক তারেক রহমান-ই আগামীর বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবে, একমাত্র উনার হাতেই নিরাপদ থাকবে বাংলাদেশ। তাই তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে তার দলকে আরো গতিশীল করতে তার দেওয়া কমিটির সাথে কাজ করার আহবান জানান এবং দলের যে কোন সিদ্ধান্ত নিজ নিজ অবস্থান থেকে সফল করার আহবান জানান।

তিনি বলেন বর্তমান বিনা ভোটের সরকার এয়ারপোর্টে প্রবাসীদের লোপাট করছে বিমান ভাড়া ৪/৫ গুণ বৃদ্ধি ও আরটিপিসিআর এর নেগেটিভ পজেটিভের ফেইক সার্টিফিকেট করে প্রবাসীদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। অনেকেই মা বাবা আত্মীয় স্বজনের লাশ ও দেখতে যেথে পারছেনা এই অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে।

তিনি আমিরাত সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রবাসীরা কর্মস্থলে ফেরার ক্ষেত্রে আরটিপিসিআর সহ অনেক রকমের শিতিলতা আনার জন্য। দেশ ও দলের জন্য প্রবাসীদের অবদানকে আগামীতে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান ব্যারিস্টার মীর হেলাল।

সভাপতির বক্তব্যে আমিরাত বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে অবশ্যই চৌকস সেনা হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার করা হবে। আমিরাত বিএনপি ৯ টি ইউনিট কমিটি নিয়ে দলীয় ও জাতীয় সব প্রুগ্রাম পালন করে আসছে। দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা পালন করা ই হচ্ছে আমাদের একমাত্র লক্ষ তাই সেই লক্ষে কাজ করতে হবে সকলকেই তার বিকল্প কোন সুযোগ নেই। এখানে টার্গেট হচ্ছে ফেসিস্ট সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা। ইনশাআল্লাহ অতি শিগগিরই দেশনায়ক তারেক রহমান দেশে ফিরে এসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবেন সেই অবধি আমাদের ধৈর্য্যচ্যুতি হওয়া চলবেনা। যার যার অবস্থান থেকে দেশ ও দলের জন্যে কাজ করে যেতে হবে।

তিনি বলেন সারা দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটের মত আমিরাত বিএনপি ও অত্যন্ত সাংগঠনিক ও শক্তিশালী সেই ধারাবাহিক রক্ষায় আপনারা অতীতের মত নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে।

আমিরাত বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্টানে ইউএই কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য নাছির চৌধুরী ও স্বপ্না মনির যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্টানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এস এম মোদাচ্ছের শাহ। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আমিরাত বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম তালুকদার।

অতিথি হিসাবে আরো উপস্থিত ছিলেন আমিরাত বিএনপির সহ সভাপতি আমিরুল ইসলাম এনাম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাহী আলম, দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, আবুধাবি বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন তালুকদার, আজমান বিএনপির সভাপতি শাহীনুর সাহিন, শারজাহ বিএনপির সভাপতি করিমুল হক, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস খালেক, মুসাফফা বিএনপির সভাপতি রুহুল আমিন, অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আবুল বাসার, হানিফ খোকন, মুজিবুল হক মঞ্জু, আজিজুল ইসলাম কিরণ প্রমুখ।

মাওলানা মোশাররফ হোসেনের কোরআন তেলাওয়াত ও বিশেষ মুনাজাতের মাধ্যমে ভাষা শহীদ ও পিলকানায় নিহত সেনা অফিসারদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।

Advertisement