বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশঃ সুজন

234

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মত প্রকাশ করেছেন দারুল উলুম কামিল মাদরাসা গর্ভনিং বডির সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

Advertisement

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) বিকেলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে মাদরাসা আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে উক্ত মত প্রকাশ করেন সুজন।

এ সময় তিনি বলেন ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম হয় শেখ মুজিবের। স্কুল জীবনে পড়া অবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে প্রথম কারাবরণ করেন শেখ মুজিব। এরপর বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে বারবার কারাবরণ করেন তিনি।

তারপরও বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে কখনো পিছপা হননি শেখ মুজিব। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা, আইয়ুব-বিরোধী আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচন সর্বোপরি ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত এবং দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের আজকের এই বাংলাদেশ। শত অত্যাচার, নির্যাতন, জেল-জুলুম উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু বাঙালিকে তার কাংখিত স্বাধীনতার লাল সূর্য এনে দিয়েছে।

১৯৭২-এর ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। সদ্য স্বাধীন দেশের পুনর্গঠনকাজে আত্ননিয়োগ করেন নিজেকে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক শক্তির ষড়যন্ত্রে মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মাথায় নারকীয় হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার পরিবারকে হত্যা করা হয়।

পরাজিত শক্তিরা সেদিন ভেবেছিলো জাতির পিতাকে হত্যা করতে পারলেই ইতিহাসের চাকাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যাবে। এবং সেজন্য অনেক কুটকৌশলও পরিচালনা করেন তারা। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের কোন ইতিহাস রচনা করা যাবে না সেটাই আজ প্রমানিত।

বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র, দুর্নীতিমুক্ত, শোষনহীন সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, আজ সে সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধুরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি আরো বলেন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা যখনই পরিপূর্ণ হবে তখনই স্বাধীনতার সুফল পুরোপুরি ভোগ করবে বাংলাদেশের জনগন। ইনশাআল্লাহ সে পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-মন্তব্য খোরশেদ আলম সুজনের।

মাদরাসা চত্বরে অধ্যক্ষ ও সদস্য সচিব মুহাম্মদ মুহসিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং সহকারী অধ্যাপক বজল আমিন এর সঞ্চালনায় কুরআন তেলওয়াত করেন আহমাদুল্লাহ রাইয়ান, দেশাত্নবোধক গান পরিবেশন করেন কাজী তাসনিয়া বিনতে সলিম, অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুহাদ্দিস মও. আনোয়ার হোসাইন, মায়মুনা হক, মও. মাহবুবুল আলম ছিদ্দিকী। মুনাজাত পরিচালনা করেন মুহাদ্দিস মও. আহমদুর রহমান নদভী।

Advertisement