রনজিত কুমার শীল: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র দেশের ইতিহাস ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এই বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আরো বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছর অথবা আগামী অর্থ বছরের মধ্যে এ বরাদ্দ বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে আজ শনিবার সকালে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিস পরিদর্শন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিউ মিডিয়ার মাধ্যমে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। এসব মাধ্যমে শিক্ষণীয় ও সচেতনতামূলক রিলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউ মিডিয়া প্রকল্পের আওতায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনটি সঠিক তথ্য, কোনটি মিসইনফরমেশন এবং কোনটি ডিজইনফরমেশন তা শনাক্ত করার জন্য বিভিন্ন টুলস ও সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে জনগণকে সঠিক তথ্য সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
বাংলাদেশ বেতারকে আরো শক্তিশালী ও আধুনিক করার বিষয়ে তিনি বলেন, বেতারের এফএম সম্প্রচার শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে।

বিটিভিকে আধুনিক ও দর্শকবান্ধব করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য ফরেনসিক অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অথবা আগামী ১০ দিনের মধ্যে অডিট কার্যক্রম শুরু হতে পারে। অডিটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিটিভির ডিজিটালাইজেশনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আরো আধুনিক ও আকর্ষণীয় করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, বিটিভির জনপ্রিয় সিগনেচার অনুষ্ঠান নতুন কুঁড়িকে আরো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’র আবেদন গ্রহণের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের অনুষ্ঠান আরো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা গেলে দর্শক-শ্রোতাদের বিটিভির প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের পরিচালক শাহীন আক্তার, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) বাপ্পী চক্রবর্তী, বাংলাদেশ বেতারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিস পরিদর্শনকালে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী তিনি বলেন সরকার ও জনগণের মধ্যে তথ্যের সেতুবন্ধনে তথ্য অধিদফতর (পিআইডির ) ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।জনগণের কাছে সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ড, উন্নয়ন ও সেবার তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি, জনগণকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিআইডির কাজের পরিধি প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বিস্তৃত। তবে জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাজের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে বিদ্যমান জনবল ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পিআইডির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণকে আরো মানসম্মত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে চলমান কার্যক্রমগুলোকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করতে হবে। সম্পদের সুষ্ঠ ব্যাবহার ও সর্বোচ্চ সেবা এবং তথ্য প্রাপ্তি জনগনের দৌড়ঘোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় আঞ্চলিক তথ্য অফিস, চট্টগ্রামের উপ প্রধান তথ্য অফিসার বাপ্পী চক্রবর্তী চট্টগ্রাম পিআইডির কার্যক্রম সম্পর্কে একটা তথ্য চিত্র উপস্থাপন করেন। এই সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

















