প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হচ্ছে:ডিসি মমিনুর

222

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত খুশীর খবর। কোন অমুক্তিযোদ্ধা যাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে ফায়দা লুটতে না পারে সে লক্ষ্যে সারাদেশে একযোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলেই তাঁরা আজ সর্বত্র সম্মানিত হচ্ছেন।

Advertisement

আজ রোববার (৩১ জানুয়ারী) বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত মহানগর পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতীয়/লাল মুক্তিবার্তা তালিকাভূক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। আজ রোববার পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এ কার্যক্রমে মৃত, যুদ্ধাহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। নগরীর মোট ১৬৭ জনের মধ্যে দু’দিনে মোট ৭৫ জন জীবিত, মৃত, অসুস্থ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। আগামী ২ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ইংরেজি মঙ্গলবার কার্যক্রমের সমাপনী দিন সকাল ১০টা থেকে বাকী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) মনোনীত যাচাই-বাছাই কমিটি মহানগরীর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন কমিটির সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম জাকারিয়া। জেলা প্রশাসক মনোনীত কমিটির সদস্য যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইলিয়াস ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মনোনীত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সেলিম উল্লাহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হারুন, যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহাফুজুর রহমান, যুদ্ধকালীন কমান্ডার জাহিদ হোসেন, যুদ্ধকালীন কমান্ডার মোহাম্মদ হোসেন, যুদ্ধকালীন কমান্ডার নূরুল বশর, যুদ্ধকালীন বেইস কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ সরদার, কবি-প্রাবন্ধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা অরুণ দাশ (সাথী), মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার শহীদুল হক চৌধুরী সৈয়দ, সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র বিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম স্বাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী নুরুল আবছারসহ মহানগরীর সকল থানা কমান্ডারবৃন্দ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও কমিটির সদস্য সচিব এস এম জাকারিয়া জানান, যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ প্রমানের জন্য সংশ্লিষ্ট গেজেটসমূহে নাম প্রকাশিত হয়েছে এমন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকে কমপক্ষে ৩ জন ভারতীয়/লাল মুক্তিবার্তা তালিকাভূক্ত সহযোদ্ধাসহ প্রশিক্ষণার্থী ও সাক্ষীসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হচ্ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কেউ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকলে তিনি কোন্ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাও ৩ জন ভারতীয়/লাল মুক্তিবার্তা তালিকাভূক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হচ্ছে। অন্যথায় তারা অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০০২ এর ৭(ঝ) ধারা অনুযায়ী “প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন” পূর্বক সরকারের নিকট সুপারিশ করার এখতিয়ার এ কাউন্সিলের উপর ন্যস্ত রয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর ৭১তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উক্ত আইনের ধারা ৭(ঝ) ব্যত্যয় ঘটিয়ে জামুকার অনুমোদন ব্যতীত যেসব বেসামরিক গেজেট প্রকাশিত হয়েছে, প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশের অংশ হিসেবে সেসব বেসামরিক গেজেট যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের আওতাধীন গেজেটসমূহের একটি তালিকা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

Advertisement