জুমাবারের ফজিলত

32

জুমার দিন সপ্তাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিনও বলা হয়। এ দিনের প্রভূত মর্যাদা ও ফজিলত কুরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যার কারণে দিনটি এত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ।

Advertisement

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর; এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি কর।’ (সূরা জুমা : ৯)।

জুমার দিনে গোসল সেরে আগে আগে মসজিদে যাওয়ার ফজিলত সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ফরজ গোসলের মতো গোসল করে এবং সালাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কুরবানি করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভি কুরবানি করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিংবিশিষ্ট দুম্বা কুরবানি করল। চতুর্থ পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি মুরগি কুরবানি করল।

পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানি করল। পরে ইমাম যখন খুতবা দেওয়ার জন্য বের হন তখন মালাইকা (ফেরেশতারা) জিকির শ্রবণের জন্য উপস্থিত হয়ে থাকে। (সহিহ বুখারি : ৮৮১)।

জুমার সালাতে উপস্থিত হলে এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। এ সম্পর্কে হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবি করিম (সা.) বলছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে এবং যথাসাধ্য ভালোরূপে পবিত্রতা অর্জন করে ও নিজের তেল থেকে ব্যবহার করে বা নিজ ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করে, অতঃপর বের হয় এবং দুজন লোকের মাঝে ফাঁক না করে, অতঃপর তার নির্ধারিত সালাত আদায় করে এবং ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় চুপ থাকে, তাহলে তার সে জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি-৮৮৩)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, নবি করিম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি গোসল করে জুমার সালাতে এলো, অতঃপর সাধ্যমতো (সুন্নাত) সালাত আদায় করল, অতঃপর ইমামের খুতবা শেষ হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকল, অতঃপর ইমামের সঙ্গে (জুমার) সালাত আদায় করল, এতে তার দুই জুমার মধ্যকার দিনগুলোর এবং আরও তিন দিনের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সহিহ মুসলিম-১৮৭২)।

জুমার দিনে একটি বিশেষ সময় আছে যে সময় বান্দা আল্লাহর কাছে যা চাইবে তাই তাকে দেওয়া হবে। এ সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ্র রাসূল (সা.) জুমার দিন সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন, এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোনো মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহ্র কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দিয়ে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত। (সহিহ বুখারি-৯৩৫)।

জুমার দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবি করিম (সা.) বলেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এ দিন হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিন জান্নাত থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং জুমার দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (সহিহ মুসলিম-১৮৬২)।

জুমার দিন হেঁটে মসজিদে যাওয়ার ফজিলত বর্ণনায় হাদিসে এসেছে হজরত আওস ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিনে মাথা ও শরীর ধুয়ে উত্তম রূপে গোসল করে জুমার সময়ের প্রথম সময়েই মসজিদে যায়, কোনো বাহনে আরোহণ না করে হেঁটেই মসজিদে যায় এবং ইমামের নিকটবর্তী হয়ে বসে, নিশ্চুপ হয়ে খুতবা শোনে ও কোনো অনর্থক কাজ না করে, তার জন্য প্রত্যেক পদক্ষেপে এক বছর আমল করার সওয়াব হবে। (সুনানে আন-নাসায়ী-১৩৮৪)।

Advertisement