আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ভেরিফাইড ডিজিটাল ডাটাবেজ প্রণয়ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, হাইলধর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের কার্ড নম্বর ঠিক রেখে আরেকজনের নাম প্রতিস্থাপন করা হয়েছে; এই অনিয়মটি ২৪ থেকে ২৬ জনের ক্ষেত্রে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি হবে। এ কর্মসূচির আওতায় আগে ১০ টাকা দরে প্রতি কেজি চাল পাওয়া যেত।
চাল বিক্রির কাজটিতে স্বচ্ছতা আনতে ‘ভেরিফাইড ডিজিটাল ডাটাবেজ প্রণয়ন কার্যক্রম’ পরিচালনা করছে সরকার। এই কাজটি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের দিয়ে করানো হচ্ছে।
অভিযোগ আছে, হাইলধর ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা কলিম উল্লাহ্ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৪ থেকে ২৬ জন সুবিধাভোগীর ক্ষেত্রে কার্ড নম্বর ঠিক রেখে আরেকজনের নাম প্রতিস্থাপন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রবাসী ও সচ্ছল পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাইলধর ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা কলিম উল্লাহ্ বলেন, ‘হাইলধর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সচিবের চাপে পড়ে ২৪ জন সুবিধাভোগীর কার্ড নম্বর ঠিক রেখে আমি নতুন মানুষের নাম অনলাইনে যুক্ত করেছি। এটা আমার ভুল হয়েছে। আপনি এ বিষয়ে চেয়ারম্যান ও সচিবের সঙ্গে কথা বলুন।’
জানতে চাইলে হাইলধর ইউনিয়নের সচিব শিবু পালিত বলেন, ‘একজনের নামের জায়গায় আরেকজনের নাম দেওয়া হয়েছে, এটা সত্য। তবে এখানে আমার কোন হাত নেই। এসব এখন ইউপি ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা করেন।’ উদ্যোক্তার অভিযোগ আপনি তাকে চাপ দিয়েছেন কাজটি করতে- এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘আমি কেন চাপ দেব। এসব আমার বিষয় না। চেয়ারম্যান পুরো ইউনিয়নবাসীকে দিলেও আমার সমস্যা নেই। টাকা পয়সা নিলেও এটা উদ্যোক্তার ব্যাপার, আমার বিষয় না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাইলধর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কলিম উদ্দীন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এসব আপনাকে কে বলেছে? আমি উদ্যোক্তা কলিম উল্লাহকে কিছু বলিনি। সে কেন কাজটি করেছে তার কাছ থেকে জেনে নিন।’
জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তপন কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি অবগত আছি। হাইলধর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি ভুল স্বীকার করেছেন। হাইলধর ইউনিয়নে প্রায় ২৬ জনের অনলাইন নম্বর ঠিক রেখে অন্যজনের নাম দেওয়া হয়েছে। আমি চেয়ারম্যানকে বলে দিয়েছি, এসব ঠিক না করলে চাল দেওয়া হবে না।’
আনোয়ারার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।’
















