জঙ্গল সলিমপুরসহ ভূপ্রকৃতি রক্ষায় স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠনের অনুরোধ

201

জঙ্গল সলিমপুর, আলীনগরসহ ভূপ্রকৃতি রক্ষায় স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠনের অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

Advertisement

আজ বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান-কে জঙ্গল সলিমপুর, আলীনগরসহ ভূপ্রকৃতি রক্ষায় অপ্রতিরোধ্য ভূমিকার জন্য চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে শত গোলাপের উষ্ণ অভিনন্দন জানাতে গিয়ে উপরোক্ত অনুরোধ জানান সুজন।

শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সুজন বলেন, বিধাতার অপরূপ সৃষ্টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য যে কাউকে প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সৌন্দর্যের আড়ালে একটি মন খারাপের গল্পও রয়ে যায়। চট্টগ্রামের সৌন্দর্যের প্রধানতম আকর্ষন টিলা, পাহাড়সহ ভূপ্রকৃতি বছরের পর বছর ধরে ধ্বংস করছে এক শ্রেণীর লোভী অর্থলিপ্সু চক্র। কখনো আবাসিক, কখনোবা বাণিজ্যিক শিল্প স্থাপনা, আবার কখনো কলকারখানা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে এসব টিলা, পাহাড় নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে। তাই এসব টিলা, পাহাড়সহ চট্টগ্রামের ভূপ্রকৃতি রক্ষায় একটি স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি এবং বর্তমান জেলা প্রশাসকের মেয়াদে টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ সুজনের।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে এখনো পর্যন্ত অবশিষ্ট যে বনাঞ্চলগুলো রয়েছে সেগুলো সংরক্ষণ করে বোটানিক্যাল গার্ডেন, ইকো পার্ক, ইকো কটেজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বনাঞ্চলগুলোও রক্ষা পাবে এবং ভ্রমণপিপাসুরা পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ফয়েস লেকটিও আরেকটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত লেক। এ লেকটিকে যদি কেটে ভাটিয়ারী পর্যন্ত সোজা করে সেখানে পাহাড়ের টিলায় স্যাটেলাইট কটেজ নির্মাণ, কেবল কারের মাধ্যমে পাহাড়ে ভ্রমণ এবং লেকে বড়শির ছিপ দিয়ে মাছ ধরার ব্যবস্থা করলে ফয়েস লেকটি অনিন্দ্যসুন্দর বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হবে নিঃসন্দেহে।

সুজন বলেন, পাহাড়তলী থেকে বারৈয়ারহাট পর্যন্ত আমাদের যেসব টিলা শ্রেণী, প্রাকৃতিক লেক, ছড়া ও ঝর্ণা রয়েছে সেগুলো ক্রমাগতভাবে কিছুসংখ্যক অর্থলিপ্সু ব্যক্তির খপ্পড়ে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এসব প্রাকৃতিক সম্পদের শ্রেণী পরিবর্তন করে রাতারাতি জমিতে রূপান্তর করছে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্টান। তাই পাহাড়তলী থেকে বারৈয়ারহাট পর্যন্ত নয়নাভিরাম ভূপ্রকৃতিসমূহকে সংরক্ষণ করে সরকারের আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জনগনের জায়গা, জমি হুকুমদখল করা হলেও এক শ্রেণীর মামলাবাজ চক্রের কারণে বছরের পর বছর টাকা পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা। তাই এসব মামলাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অুনরোধ জানান তিনি।

তিনি আগামী দিনের চট্টগ্রামের অপার সম্ভাবনা বিবেচনায় এখন থেকেই সরকারি উদ্যোগে চট্টগ্রামে আগত বিদেশী অতিথি, বিনিয়োগকারী, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরতদের জন্য পরিকল্পিত আবাসন, বিনোদনসহ অত্যাধুনিক সংরক্ষিত অঞ্চল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণেরও আহবান জানান।

সুজন আরো বলেন, সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চাল, আটা, ময়দা, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ৯টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম নির্ধারণের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেটাকে সাধুবাদ জানিয়ে ওষুধকেও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের আওতায় আনার অনুরোধ জানান। এছাড়া চট্টগ্রামের প্রধানতম পাইকারি এবং খুচরা বাজারসমূহের প্রবেশমূখে পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন করার উদ্যোগ গ্রহনের আহবান জানান, যাতে ক্রেতা সাধারণ পন্য কিনতে এসে কোন ধরনের প্রতারণার শিকার না হয়। তাছাড়া সরকারি, আধা সরকারি স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসা, বৌদ্ধ মন্দির ও গীর্জা-কে করের আওতামুক্ত রাখারও অনুরোধ জানান খোরশেদ আলম সুজন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সুজনকে তাঁর দপ্তরে স্বাগত জানান এবং তাঁকে অভিনন্দন জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি নাগরিক উদ্যোগের প্রতিটি প্রস্তাবনার সাথে সম্পূর্ণ সহমত পোষন করেন।

তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে এসব প্রস্তাবনা প্রণয়ন করা গেলে চট্টগ্রাম শহরটি একটি দৃষ্টিনন্দন শহরে পরিণত হবে। হুকুমদখলের মামলাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন ইতোমধ্যে এ চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। জঙ্গল সলিমপুরেও উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। সেখানে স্পোর্টস ভিলেজ থেকে শুরু করে হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে এসব প্রতিষ্ঠান নির্মাণ হলে চাপ কমবে শহরের ওপর। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তিনি নাগরিক উদ্যোগের প্রস্তাবনাসমূহ বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করার আশ্বাস প্রদান করেন এবং চট্টগ্রামের সকল নাগরিকবৃন্দকে তাঁর সকল কাজে সহযোগিতা করার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক উদ্যোগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী মো. ইলিয়াছ, আব্দুর রহমান মিয়া, রুহুল আমিন তপন, সাইদুর রহমান চৌধুরী, সদস্য সচিব হাজী মো. হোসেন প্রমূখ।

Advertisement