বিতর্কিত শিল্পগ্রুপ কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের (কেএসআরএম) মালিক মো. শাহজাহানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। বাকি দুজন হলেন কবির স্টিল লিমিটেডের (শিপ ব্রেকিং) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের ও ব্যবস্থাপক মো. মেহেরুল করিম।
আদালতের নির্দেশের পরও শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ না করায় চট্টগ্রামের প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান এ আদেশ দিয়েছেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি সশরীরে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সীতাকু- উপজেলার মাদাম বিবিরহাটের ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থিত কবির স্টিল লিমিটেডে (শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে) কর্মরত ছিলেন মো. জসীম উদ্দিন। ২০১২ সালের ১১ আগস্ট তাকে চাকরিচ্যুত করে; কিন্তু বকেয়া পাওনা দেয়নি। তখন ওই শ্রমিক প্রথম শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেন। ওই মামলার বিপরীতে কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ মিস মামলা করে; ২০১৭ সালে ১৬ জুলাই।
মালিকপক্ষের সেই মামলা খারিজ করে দেন আদালত। এর পর পাওনা দিতে নোটিশ দিলেও মালিকপক্ষ তা আমলে নেয়নি। ফলে ২০০৬ সালের শ্রম আইনের ২৯২, ২৯৩ ও ৩০৭ ধারায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন শ্রমিক জসীম উদ্দিন। রায় বাস্তবায়ন না করায় গত বছরের ৬ ডিসেম্বর আদালত অবমাননার মামলাটি দায়ের করা হয় (৯৮/২০২২)। মামলা আমলে নিয়ে আদালত গত ২ জানুয়ারি মো. শাহজাহান, ফজলুল কাদের ও মেহেরুল করিমের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
কেএসআরএম গ্রুপের শিপ ইয়ার্ডে শ্রমিকদের পাওনা আদায় না করার ঘটনা এর আগেও বহুবার ঘটেছে। ইয়ার্ডে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়েছেন শ্রমিক মুন্না। ৬ বছর ঘুরে বকেয়া ও ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি। প্রতিকার না পেয়ে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের প্রথম শ্রম আদালতে মামলা (ডব্লিউ সি(শ্রম) ১৪/২০২২) করেন তিনি।
ওই মামলায় চট্টগ্রামের সীতাকু- উপজেলার ভাটিয়ারি মাদাম বিবিরহাট এলাকার কবির গ্রুপ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যবস্থাপককে বিবাদী করা হয়েছে। শ্রম আইনের (২০০৬)-এর ১৫০, ১৫১ ও ১৫৭ ধারার মামলায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ও ২৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।
শ্রমিকের পাওনা দিতে গড়িমসি করায় ২০১৭ সালে শাহজাহানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিলেন চট্টগ্রামের প্রথম শ্রম আদালত। ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর আদালত তাদের সশরীরে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন কবির স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান, মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ নজরুল আলম ও ইয়ার্ড ম্যানেজার মো. মফিজের বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছিল। ইয়ার্ডে নিহত শ্রমিক শচিন্দ্র দাশের মা আলো রানী দাশ বাদী হয়ে ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর প্রথম শ্রম আদালতে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।














