অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় থেমে যাওয়ার পথে একটি কোমলমতি শিক্ষার্থীর জীবন প্রদীপ। অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া নামে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বেডেই আটকে আছে গুনগুন ভট্টাচার্য (১২) নামের এই কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি তার জীবন প্রদীপ।
গুন গুন ভট্টাচার্য নগরীর পাথরঘাটা সেন্ট জোনস গ্রামার স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করলেই সুস্থ হয়ে উঠবে গুন গুন। ফিরে পাবে জীবনের আলো। সচল হবে শিক্ষা জীবনের সেই কোলাহল মুখর দিন। তবে এ জন্য প্রয়োজন ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু হতদরিদ্র গুনগুনের পিতা মাতার পক্ষে এত মোটা অংকের অর্থের যোগান দেয়ার মত সক্ষমতা নেই।
গত ৬ মাসে ভারতসহ নগরীর হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাদের সব সহায় সম্বল বিলিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। ইতোমধ্যে নিজের এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সহায়তায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে নিজেদের একমাত্র নারী ছেড়া ধনকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এই দম্পতি। এখন টাকার অভাবে নিয়মিত ঔষধও কিনতে পারছেনা তাঁরা। গুনগুনের ঔষধ গুলো ভারত থেকে আনতে হয়। কিন্তু অর্থ সংকটে গত কয়েকমাস ধরে নিয়মিত ঔষধ খাওয়াতে না পারায় আবারো দিন দিন অবনতির দিকে গুন গুনের অবস্থা।
গত ১৪ মার্চ চট্টগ্রামের লায়ন্সক্লাবে লায়ন্স জেলা সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে অশ্রুশিক্ত কন্ঠে এসব কথা বলছিলেন গুন গুনের মা ঝুমা ভট্টাচার্য।
তিনি অশ্রু শিক্ত কন্ঠে বলেন, তাঁর একটি মাত্র মেয়ে গুনগুন। নিজেদের সংসারে আর্থিক সংকটের মাঝেও গুনগুনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন এ দম্পতি। কিন্তু আচমকা একটি ঝড় তাদের জীবনকে এলোমেলো করে দিয়েছে। মেয়ের এমন কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় রীতিমতো দিশেহারা তাঁরা।
সহযোগী অধ্যাপক ডা. শিরাজাম মুনিরা জানান, অপারেশনের মাধ্যমে গুনগুন সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। এজন্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। অবশ্য এদিন উপস্থিত লায়ন সদস্যরা সকলে ৩২ হাজার টাকা কালেকশন করে গুন গুনের মা ঝুমার হাতে তুলে দেন। এসময় লায়ন্স সদস্যরা বলেন চট্টগ্রামসহ দেশের সম্পদশালী মানবিক ব্যক্তিরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে সুস্থ হয়ে উঠবে গুন গুন। ফিরে পাবে তার আগের সেই কোলাহল পুর্ণ দিনগুলি। সচল হবে জীবনের প্রদীপ শিখা। চট্টগ্রামসহ দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠবে গুন গুন। এমন পরিস্থিতিতে গুন গুনের মা ঝুমা ভট্টাচার্য্য এর নিমোক্ত ব্যাংক হিসাব নাম্বারে সাহায্য পাঠানো জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সাহায্য ও যোগাযোগের ঠিকানা-ঝুমা ভট্টাচার্য, পূবালী ব্যাংক, সঞ্চয়ী হিসাব নং- ১৫২৮ ১০ ১০৮৩৬২১, শাখা- পাথরঘাটা। বিকাশ নম্বর ০১৮৬২-২০১২৪০ (ঝুমা ভট্টাচার্য)।















