পাহাড়ের পাদদেশে আর কোনো বসতি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে পুনর্বাসন করা হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী By editor - জুলাই ১১, ২০২৬ 5 Facebook Twitter Pinterest WhatsApp টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ এলাকার ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত দুর্গত মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। সোমবার (১১ জুলাই) রাত ৮ ঘটিকায় নগরের আকবরশাহ থানার ১ নম্বর ঝিলের উপরে বায়তুন নুর জামে মসজিদ সংলগ্ন ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। Advertisement প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে গত কয়েক দশকের অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান তারেক রহমান তাকে চট্টগ্রামে পাঠিয়েছেন ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে। তিনি জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন খাদ্য, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবছর পাহাড়ধসে প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি রোধে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা হবে। এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় জমি ও আবাসনের ব্যবস্থা করবে। তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগেই ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আকবরশাহ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটা ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসী চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে পাহাড় কাটা কার্যক্রমও বন্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ এলাকায় কোনো নতুন আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, মানবিক সরকারের নির্দেশনায় পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষদের স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশে আর কাউকে বসবাস করতে দেওয়া হবে না। মেয়র আরও বলেন, দুর্যোগের শুরু থেকেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত রান্না করা খাবার, শুকনো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে। যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন সিটি কর্পোরেশন দুর্গত মানুষের পাশে থাকবে। গর্ভবতী নারী, শিশু ও অসুস্থদের জন্য সিটি কর্পোরেশনের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত নারী, শিশু ও প্রবীণদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। Advertisement