বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্তব্ধ করতে পাকিস্তানীরা নির্বিচারে গণহত্যা চালায়: কমান্ডার মোজাফফর

127

গণহত্যা দিবস-২০২৩ উপলক্ষে আজ ২৫ মার্চ শনিবার সকাল ১১টায় নগরীর চট্টগ্রাম গভঃ মুসলিম হাই স্কুল কর্তৃক হল রুমে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

Advertisement

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মমতাজ আকতারের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক চৌধুরী সৈয়দ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রাতঃ শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিনিয়র শিক্ষক হাওলাদার কামরুল ইসলাম। সিনিয়র শিক্ষক মোঃ কামাল উদ্দিন জাফরীর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সভা শেষে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ভয়াল কালরাতে বর্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ নিহতদের রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মুনাজাত করা হয়। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ বলেন, বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীর বীভৎস হত্যাকান্ড শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বমানবতার ইতিহাসে এটি একটি কালো অধ্যায়। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ ছিল বাঙালির একটি প্রজন্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এক নারকীয় পরিকল্পনা। এমন গণহত্যা আর কোথাও যাতে না ঘটে সে জন্য তিনি ২৫ মার্চকে গোটা বিশ্বে স্মরণ করতে ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভের দাবী জানানোর পাশাপাশি দেশ বিরোধী জঙ্গি ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার আহবান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া গেলে যারা এ গণহত্যা চালিয়েছিল তারা বিশ্বের দরবারে আর কখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। ২৫ মার্চ তথা ১৯৭১ সাল জুড়ে বাঙালি জাতির ওপর যা হয়েছিল তা ইতিহাসের পাতায় অভিশপ্ত একটি স্থান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পরেই আমরা পাকিস্তানিদের উত্তরসূরিদের পেয়েছি। তবে এখন দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছে। এ সময়ই স্বীকৃতি আদায়ের সঠিক সময় বলে উল্লেখ করেনতুন প্রজন্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসে উদ্বুদ্ধ করার আহবান জানান তিনি। পাশাপাশি ১৯৭১ সালে সংঘটিত মহান মুক্তিযুদ্ধের ভয়াল চিত্র তুলে ধওে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজেদের গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান কমান্ডার মোজাফফর।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক চৌধুরী সৈয়দ বলেন, বাঙালিকে গণহত্যার বিষয়ে সন্দিহান করা হয়েছে এটা খুবই লজ্জাজনক। জাতিকে মেধাশূণ্য করতেই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানীরা এদেশে গণহত্যা চালিয়েছিল। এই বর্বর বাহিনী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের খুঁজে খুঁজে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তাই যারা এ ঘৃণ্য কাজ করেছে তারা স্বাধীনতার শত্রু, দেশের শত্রু। তাদের গোটা বিশ্বেই ঘৃণ্যভাবে পরিচিত রাখতে দিবসটির স্বীকৃতি আর্ন্তজাতিক প্রয়োজন। স্বাধীনতার ৫৩তম বছরে এসেও এ গণহত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত পাকিস্তান কোনো দিন তাদের এ নৃশংস কার্যক্রমের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেনি। আর সে কারণেই পাকিস্তানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, জাতির পিতা যে অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্প উন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছে। গণহত্যার শোককে শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সরকারের উন্নয়নের মহাসড়কে সবাইকে সামিল হতে হবে।

Advertisement